খোয়াজ | Pied avocet | Recurvirostra avosetta

846
খোয়াজ | ছবি: ইন্টারনেট

এরা দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়া, উত্তর-পূর্ব চীন, পূর্ব-দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা। আমাদের দেশে পরিযায়ী হয়ে আসে কনকনে শীতে। তবে আমাদের দেশে এসে এরা সবখানে বিচরণ করে না। বিচরণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মোহনাতে। আমাদের দেশে এই পাখি প্রথম নজরে আসে ১৯৮২ সালে হাতিয়ার পশ্চিমে ঢালচর এলাকায়। নিরীহ প্রকৃতির এ পাখি বেশ দৃষ্টিনন্দনও বটে।

এরা বেশিরভাগ সময় একাকী শিকারে বের হলেও মাঝে-মধ্যে দলবদ্ধভাবেও শিকারে নামে। জলচর এ পাখি সাধারণত হাঁটু সমান পানিতে নেমে শিকার ধরে। পানিতে ভেসে বা সাঁতার কেটে খাবার খোঁজে না। শিকার ধরার কৌশল বেশ চমত্কার। ঠোঁটটা পানিতে ডুবিয়ে ডানদিকে পানি সরিয়ে শিকার ধরে। এদের ঠোঁটটিও দেখার মতো। জলচর পাখিদের মধ্যে এরাই একমাত্র পাখি, যাদের ঠোঁট সরু এবং সূচালো। ডাকে ‘ক্লু-ইট-ক্লি-ইউ’ সুরে।

এ পাখির বাংলা নাম: ‘খোয়াজ’, ইংরেজি নাম: ‘পায়েড এ্যাভোসেট'(Pied avocet), বৈজ্ঞানিক নাম: Recurvirostra avosetta | ‘ঢেঙ্গা’ নামেও এরা পরিচিত।

লম্বায় ৩৫-৪০ সেন্টিমিটার। পা ২৩-২৫ সেন্টিমিটার। এদের লম্বা ঠোঁটটি সরু, সূচালো এবং উপরের দিকে বাঁকানো। গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত কালো। এদের মাথা, ঘাড় কালো। বলা যায় দেহের পুরাটাই সাদা-কালো পালকে আবৃত। গলা থেকে লেজের তলা পর্যন্ত ধবধবে সাদা। সাদা পিঠের দুই পাশে দুইটি কালো পট্টি। লম্বা পা ধূসরাভ-নীল। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। আকারে স্ত্রী পাখি খানিকটা খাটো। এদের প্রধান খাবার জলজ পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে আগস্টের মাঝামাঝি। জলাশয়ের কাছাকাটি খোলা জায়গায় সামান্য খড়কুটা দিয়ে বাসা বানিয়ে ৩-৪টি ডিম পাড়ে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ে মিলে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন। শাবক বাসা ছাড়ে ৩৫-৪২ দিনের মধ্যে। প্রজনন সক্ষম হতে সময় লাগে ২-৩ বছর।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 10/10/2018

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.