দাগি বাবুই | Streaked Weaver | Ploceus manyar

1068
দাগি বাবুই | ছবি: ইন্টারনেট

বাবুই গোত্রের হলেও এদের দেশি বাবুইয়ের মত সচরাচর দেখা যায় না। এরা এই এলাকারই পাখি তবে সাধারণত বিচরণ করে পাহাড়ি এলাকায় কিংবা জলাভূমির আশপাশের কাশবন বা নলখাগড়ার বনে। স্বভাব চরিত্রে এরা দেশি বাবুইদের মতোই। সারাদিন কিচির-মিচির করে কাটায়। বাসা বাঁধে একই আদলে, তবে আকারে খানিকটা খাটো। প্রজনন ঋতুতে কণ্ঠস্বর বেশ মধুর হয়। ওই সময় ডাকে ‘কিটি-টিনলি-ই-ই-কিটি’। আমাদের দেশে এরা মোটেই ভালো অবস্থায় নেই। বলা যায়, অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। জলাভূমির আশপাশের ঝোপঝাড় উজাড় হওয়াতে এদের সংখ্যা কমছে দ্রুত। প্রজননে বিঘ্ন ঘটছে। আমাদের দেশ থেকে এই পাখি চিরতরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি দেরি নেই।

এ পাখির বাংলা নাম:‘দাগি বাবুই’, ইংরেজি নাম:‘ষ্ট্রিকড উইভার'(Streaked Weaver), বৈজ্ঞানিক নাম: Ploceus manyar | গোত্রের নাম:’পাসেরিদি’ | এরা ডোরা বাবুই ও রেখা বাবুই নামে পরিচিত। বিশিষ্ট পাখি বিশারদ অজয় হোম এদের নাম দিয়েছেন,’তেলে-বাবুই’।

লম্বায় ১৪-১৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রঙ বদলায়। তখন মাথার তালু সোনালি-হলুদ এবং মাথার দু’পাশে কালচে রঙ ধারণ করে। পিঠ গাঢ় বাদামি। গলা থেকে নিচের দিকটা উজ্জ্বল কালো রেখা। প্রজনন ঋতুর বাইরে পুরুষের মাথার হলদে রঙ থাকে না। এ ছাড়াও দেহের ডোরাদাগও মলিন হয়ে যায়। তখন স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম লাগে। উভয়ের ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির, বাদামি-কালচে।

প্রধান খাবার: শস্যবীজ, ঘাসবীজ ইত্যাদি। প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই। বাসা বাঁধে কাশ কিংবা হোগলাবনে। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৩-১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 12/11/2013

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.