দাগি বাবুই | Streaked Weaver | Ploceus manyar

1225
দাগি বাবুই | ছবি: ইন্টারনেট

স্থানীয় প্রজাতির পাখি হলেও দুর্লভ দর্শন। ‘দেশি বাবুই’ পাখির মতো এদের সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণত বিচরণ করে পাহাড়ি এলাকায় কিংবা জলাভূমির আশপাশের কাশবন অথবা নলখাগড়ার বনে। স্বভাব চরিত্রে এরা দেশি বাবুইদের মতোই; চেহারাও দুষ্ট। খাদ্য সংকটে নয়, অকারণেই সারা দিন কিচির-মিচির করে কাটায়।

বাসা বাঁধে দেশি বাবুইদের বাসার আদলেই, তবে আকারে খানিকটা খাটো। প্রজনন ঋতুতে কণ্ঠস্বর পাল্টে যায়; মধুর শোনায় তখন। ডাকে ‘কিটি-টিনলি-ই-ই-কিটি’। দেশে এরা ভালো অবস্থানে নেই। বলা যায়, অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে জলাভূমির আশপাশ জঙ্গলমুক্ত হওয়ায় এরা ভীষণ বিপাকে পড়েছে। প্রজননে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। পাখি বিশারদদের অভিমত আবাসন সংকটের কারণে এরা অচিরেই এ দেশ থেকে হারিয়ে যাবে।

পাখির বাংলা নাম: ‘দাগি বাবুই’, ইংরেজি নাম: ‘ষ্ট্রিকড উইভার’ (Streaked Weaver), বৈজ্ঞানিক নাম: Ploceus manyar | গোত্রের নাম: ‘পাসেরিদি’ | এরা ডোরা বাবুই ও রেখা বাবুই নামে পরিচিত। বিশিষ্ট পাখি বিশারদ অজয় হোম এদের নাম দিয়েছেন,’ তেলে-বাবুই’।

 প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৪-১৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রং বদলায়। তখন মাথার তালু সোনালি-হলুদ এবং মাথার দুপাশে কালচে রং ধারণ করে। পিঠ গাঢ় বাদামি। গলা থেকে নিচের দিকে উজ্জ্বল কালো রেখা। প্রজনন ঋতুর বাইরে পুরুষের মাথার হলদে রং থাকে না। এ ছাড়াও দেহের অন্যান্য ডোরা দাগ মলিন হয়ে যায়। তখন স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম লাগে। উভয়ের ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির, বাদামি-কালচে।

প্রধান খাবার: শস্যবীজ, ঘাসবীজ ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই। বাসা বাঁধে কাশবন কিংবা হোগলাবনে। ডিম পাড়ে দুই-চারটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৩ থেকে ১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 10/06/2020

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.