সিপাহী বুলবুল | Red whiskered bulbul | Pycnonotus jocosus

2226
সিপাহী বুলবুল | ছবি: ইন্টারনেট

দেশের সর্বত্রই কমবেশি নজরে পড়ে। এরা ‘বাংলা বুলবুল’ পাখির জ্ঞাতি ভাই। চেহারায় বেশ খানিকটা মিলও রয়েছে। স্থানীয় প্রজাতির পাখি হলেও এদের বাংলা বুলবুলের মতো অত বেশি দেখা যায় না। এ পাখিরা বেশির ভাগই মানুষের বসতির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে। গেরস্তের ফল-ফলাদি খেয়ে নষ্ট করলেও তা পুষিয়ে দেয় মিষ্টি গান শুনিয়ে। ভালো গাইয়ে হলেও এরা মোটামুটি সাহসী।

আবার ভারি চঞ্চল। এদের এক স্থানে দু’দণ্ড স্থির হয়ে বসতে দেখা যায় না। অনেক সময় একেবারে লোকজনের বসতঘরের কাছে এসেও এরা বাসা বাঁধে। কেউ বিরক্ত না করলে তারা সেখানে ফি বছর ডিম-বাচ্চা ফোঁটায়। এক সময় রাজধানীতেও এ পাখিদের বিচরণ ছিল। তবে বর্তমানে খুব একটা নজরে পড়ে না।

এ পাখির বাংলা নাম: ‘সিপাহী বুলবুল’, ইংরেজি নাম: ‘রেড হুইস্কারড’ (Red-whiskered bulbul), বৈজ্ঞানিক নাম: Pycnonotus jocosus | গোত্রের নাম: ‘পিকনোনোটিদি’। দেশে মোট নয় ধরনের বুলবুল নজরে পড়ে। যেমন: বাংলা বুলবুল, সিপাহী বুলবুল, মেটে বুলবুল, কালামাথা বুলবুল, কালাঝুঁটি বুলবুল, কালচে বুলবুল, কালা বুলবুল, ধলাগলা বুলবুল ও জলপাই বুলবুল।

এরা লম্বায় ২০ সেন্টিমিটার। মাথায় খাড়া কালোঝুঁটি। গলা, বুক ও পেট সাদা। গালের দু’পাশ সাদা। চোখের নিচের দিকে উজ্জ্বল লাল। গলা পেটের সন্ধিস্থলে কালো সরু ডোরা। পিঠ থেকে লেজের উপরাংশ পর্যন্ত কালচে-বাদামি। লেজের প্রান্ত কালচে। বস্তিপ্রদেশ লাল। ঠোঁট ও পা কালচে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার: ফল, ফুলের মধু ও ছোট পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন। গাছের নিচু ডালে পেয়ালা আকৃতির বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 03/12/2013

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.