শঙ্খচিল | Brahminy Kite | Haliastur indus

2834
শঙ্খচিল | ছবি: ইন্টারনেট

অনেক পরিচিত পাখি এরা। এদের নিয়ে অনেক কবিতা, উপন্যাস রচিত হয়েছে। গাঁও-গ্রামের সবাই এ পাখিকে চেনেন। দেশের সর্বত্রই কম-বেশি এদের বিচরণ রয়েছে। এমনকি শহরের বাসিন্দারাও এদের সঙ্গে পরিচিত। এরা জোড়ায় জোড়ায় জলাশয়ের পাশে, গাছের ডালে শিকারের উদ্দেশ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। হাঁস-মুরগির ছানার প্রতি এদের লোভ কম। যার কারণে গৃহস্থবাড়ির আশপাশে ওড়াওড়ি করে সময় নষ্ট করে না। আবার সুযোগ পেলে তা হাতছাড়াও করে না। তবে অন্যান্য প্রজাতির চিলের মতো এরা অত হিংস্র নয়। এদের কণ্ঠস্বর কর্কশ। ‘আঁ-হা-আঁ-হা’ সুরে ডাকে। কণ্ঠস্বরে এক ধরনের আর্তনাদ ফুটে ওঠে।

ওদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটেছে সেই ছোট বেলায়। রায়পুরের (লক্ষ্মীপুর) ডাকাতিয়া নদীর তীরে। রায়পুর বাজারসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর ওপর তখন কাঠেরপুল ছিল। ভাঙা সেই কাঠেরপুলের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হতো। সেই সুবাদে ওদের প্রায়ই দেখতাম শিকারের নেশায় নদীর ওপর চক্কর দিতে। আবার নদীর পাড়ে নানা ধরনের গাছ-গাছালির ডালে বসে থাকতেও দেখা যেত। এখন আর ওখানে এ পাখি দেখা যায় না। মাস তিনেক আগেও গিয়েছি সেখানে। কিন্তু এদের দেখা পাইনি।

পাখিটার বাংলা নাম: ‘শঙ্খচিল,’ ইংরেজি নাম: ‘ব্রাহ্মণী কাইট’ (Brahminy Kite), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘হালিয়াস্টুর ইন্ডাস’ (Haliastur indus)। এদের বহুবিদ নাম রয়েছে। যেমন: চণ্ডীচিল, সোনালি ডানাচিল, মদনচিল, ফতাচিল ইত্যাদি। অনেকে শঙ্করচিল নামেও ডাকে।

এ চিল লম্বায় ৪৬-৪৮ সেন্টিমিটার। এদের ঠোঁট গোড়া থেকে বাঁকানো চ্যাপ্টা গড়নের। বর্ণ ধূসর-নীলচে। মাথা, ঘাড়, গলা, বুক, পেটের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাদা। তার ওপর সরু মরিচা ধরা খাড়া টান। ডানা লালচে। লেজ, ডানার প্রান্ত কালো। তলপেট থেকে বস্তিপ্রদেশ পর্যন্ত লালচে। পা, আঙ্গুল ময়লা হলুদ, নখ কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার: মাছ, সাপ, গিরগিটি, ব্যাঙ। এরা মৃত পচা মাছও খায়। তাছাড়া যে কোনো ধরনের পচাগলার প্রতি এদের আকর্ষণ রয়েছে। বলা যায় সর্বভূক পাখিদের কাতারে রয়েছে ওরা। প্রজনন সময় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। বড়সড়ো গাছের উঁচু ডালে সরু ডাল-পালা দিয়ে বাসা বাঁধে। স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ে ২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৫-২৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 09/11/2012

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.