ধূসর কোকিল | Grey-bellied Cuckoo | Cacomantis passerinus

2855
ধূসর কোকিল | ছবি: ইন্টারনেট

বিরল দর্শন আবাসিক পাখি। দেখতে জ্ঞাতি ভাই কোকিলের মতো হলেও রং ভিন্ন এবং আকারেও খাটো। বিচরণ করে খোলা মাঠ প্রান্তরে, খোলা বনভূমির উঁচু গাছ-গাছালিতে এবং উঁচু ঝোপজঙ্গলে। একাকী কিংবা জোড়ায় জোড়ায় শিকারে বের হয়। আসলে এরা ঘটা করে শিকারে বের হয় না। মিয়া-বিবি উড়ে উড়ে পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ ধরে খায়।

সব সময় হাঁকডাক করা এদের পছন্দ নয়। কেবলমাত্র প্রজনন মৌসুমে হাঁকডাক বেড়ে যায়। এ সময় পুরুষ পাখি মেঘাচ্ছন্ন দিনে, ভোরের দিকে, গোধূলিলগ্নে এবং পূর্ণিমার রাতে শোকাতুর সুরে ‘টীর টীর টীর পীপিপি পিউয়ী’ কণ্ঠে ডাকতে থাকে। প্রজাতিটিকে দেশে তেমন একটা দেখা যাওয়ার নজির নেই। সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এক সময় অনিয়মিতভাবে দেখা গেছে। সর্বশেষ উনিশ শতকের দিকে ঢাকা বিভাগের বনাঞ্চলে দেখা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। সূত্রমতে জানা যায়, এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ চীন এবং ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্বে প্রজাতিটি বিপন্মুক্ত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘ধূসর কোকিল’, ইংরেজি নাম: ‘গ্রে-বেলিড কুক্কু’, (Grey-bellied Cuckoo), বৈজ্ঞানিক নাম: Cacomantis passerinus | এরা ‘মেটেপেট পাপিয়া’ নামেও পরিচিত।

লম্বায় ২৩ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে তফাত রয়েছে। সামান্য অংশ বাদে পুরুষ পাখির দেহের উপরের দিক কালচে ধূসর রঙের। ওড়ার পালকও কালচে ধূসর। লেজ কালচে ধূসর হলেও অগ্রভাগ সাদা। লেজের নিচের দিকে সাদা ডোরা। দেহের নিন্মাংশ পীতাভ-সাদা। পাপিয়াদের মতো স্ত্রী পাখির চেহারা সাধারণত দু’ধরনের হয়। যেমন পুরুষ পাখিদের মতো এবং কলজে রঙের চেহারারও হয়। এদের পিঠ কালো ডোরাসহ লালচে-বাদামি। গলা ও বুক কালোর ওপর ঢেউ ঢেউ। দেহতল লালচে। উভয় পাখির ঠোঁট শিং কালো। চোখ বাদামি। পা ও পায়ের পাতা বাদামি-হলুদ। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দেখতে কলচে রঙের।

প্রধান খাবার: নরম পোকামাকড়। লোমশ শুঁয়োপোকার প্রতি আসক্তি বেশি। প্রজনন মৌসুম জুন থেকে সেপ্টেম্বর। নিজেরা বাসা বাঁধতে জানে না। বড় ফুটকি বা প্রিনা পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। ডিম কত দিনে ফোটে তার সঠিক হিসাব নেই।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 09/09/2015