রঙিলা বক | Painted Stork | Mycteria leucocephala

3252
রঙিলা বক | ছবি: ইন্টারনেট

সুদর্শন পরিযায়ী পাখি ‘রঙিলা বক’। দেশে খুব একটা দেখার নজির নেই। আমাদের দেশে সর্বশেষ দেখা গেছে গত ২২ মে চট্টগ্রামের ষোলো শহর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) কাছে বাঁশঝাড়ে। এরা অতি বিপন্ন প্রজাতির পাখি। সৌভাগ্যক্রমে দেশে দেখা গেছে। একটা সময়ে বাংলাদেশে ভালো অবস্থানে ছিল এরা। পাশাপাশি দেখা যেত ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস ও মিয়ানমারে। বর্তমানে এতদঞ্চলেও খুব বেশি দেখা যায় না। তবে পাকিস্তানের ‘সিন্ধু’ উপত্যকায় এবং নেপালের ‘তেরাই’ অঞ্চলে যৎসামান্য দেখা মেলে।

সমগ্র বিশ্বে এদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে বিপদগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত। রঙিলা বক জলচর পাখি। বিশেষ করে জলাশয়ের কিনারে হেঁটে হেঁটে শিকার করে। বিচরণ করে জোড়ায় কিংবা ছোট দলে। বিচরণকালে লম্বা ঠোঁটটি কাদাজলে ঢুকিয়ে শিকার খুঁজতে থাকে। ঠোঁটে কিছুর স্পর্শ পেলে অমনি বন্ধ করে দেয়। এরা তেমন হিংস নয়। তেমন একটা গলাবাজিও করে না। তবে ভয় পেলে বা উত্তেজিত হলে ঠোঁট দুটিকে একত্রিত করে শব্দ করতে থাকে।

পাখির বাংলা নাম: রঙিলা বক, ইংরেজি নাম: পেইন্টেড স্টর্ক (Painted Stork), বৈজ্ঞানিক নাম: মিকটেরিয়া লিউকোসেফালা (Mycteria leucocephala), গোত্রের নাম: সিকোনিআইদি’। এরা রাঙা মানিকজোড়, চিত্রাবক, ও সোনাজঙ্ঘ নামে পরিচিত।

লম্বায় ৯৩ সেন্টিমিটার (ঠোঁট থেকে পা পর্যন্ত)। ওজন ৩ কেজি। ঠোঁট নিচের দিকে হেলানো, অগ্রভাগ পাটকিলে, গোড়া কমলা-হলুদ। মুখ ও মাথা পালকহীন কমলা-হলুদ বর্ণের। প্রজনন মৌসুমে রঙ বদলিয়ে লালচে রঙ ধারণ করে। ঘাড়, লম্বা গলা ও পিঠ সাদা। ডানার মধ্য পালক এবং প্রান্ত পালক কালো-সাদার মিশ্রণ। লেজ খাটো, পালক উজ্জ্বল লাল, তন্মধ্যে ক’টি কালো পালক দেখা যায়। দেহতল সাদা। বুকে কালো পট্টি। পা অস্বাভাবিক লম্বা। বর্ণ হালকা গোলাপি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার: মাছ, ব্যাঙ, জলজকীট ও ছোট সরীসৃপ। প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে অক্টোবর। জলের কিনারে উঁচু গাছে মাচাকৃতির বাসা বাঁধে। কলোনি টাইপ বাসা। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো সরু ডালপালা, শুকনো কচুরিপানা ও শুকনো শ্যাওলা। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৮-৩০ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে ৬০ দিনের মতো।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 30/05/2014