গোলাপি কাঠশালিক | Rosy starling | Strunus roseus

1072
গোলাপি কাঠশালিক | ছবি: ইন্টারনেট

বিরল দর্শন পরিযায়ী পাখি। মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে। তবে যেখানে সেখানে দেখা যায় না। দেখা মেলে সিলেটের বনাঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। দেখা মেলে দীপাঞ্চলেও। আইইউসিএন এই প্রজাতির পাখিকে বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। এরা বিচরণ করে স্যাঁতসেঁতে তৃণভূমিতে। কাঁটা ঝোপ কিংবা ছোট ফল গাছেও বসতে দেখা যায়। বিচরণ করে একাকী কিংবা ছোট দলেও। দেখতে অনেকটাই ভাত শালিক কিংবা ঝুঁটি শালিকের মতো। সাধারণের ধারণা এরা বুনো ময়না। অনেকে তাই ‘লাল ময়না’ নামেও চেনে। এরা ডাকে ‘চিক-ইক-ইক-ইক’ ধ্বনিতে।

পাখির বাংলা নাম: ‘গোলাপি কাঠশালিক’, ইংরেজি নাম: ‘রোজি স্টার্লিং’, (Rosy starling), বৈজ্ঞানিক নাম: Strunus roseus | গোত্রের নাম: ‘স্টুরনিদি’। এরা ‘গোলাপি শালিক’ নামেও পরিচিত।

লম্বায় ২৩ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড়, গলা, ডানা ও লেজ কালো। পিঠ, বুক এবং লেজের নিচের গোড়া পর্যন্ত হালকা গোলাপি। ঠোঁট ও পা ফিকে গোলাপি। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম মনে হলেও প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রং বদলায়। এ সময় পুরুষ পাখির গায়ের রং চকচকে গোলাপি দেখায়। মাথার ঝুঁটিও খানিকটা বেড়ে ওঠে। যুবাদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের রং তুলনামূলক উজ্জ্বল।

প্রধান খাবার: পোকামাকড় হলেও ছোট ফল, ফুলের মধু ও শস্যবীজে ভাগ বসায়। প্রজনন সময় মে থেকে জুন। বাসা বাঁধে খাড়া মাটির দেয়ালে। বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ের গায়ে গর্ত করে বাসা বানায়। দলের অনেকে মিলে কলোনি টাইপ বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭ দিন। প্রকৃতির এক বর্ণিল প্রজাতি এই পাখি, যাদের জীবন প্রক্রিয়াও বেশ বর্ণাঢ্য। এদের রক্ষায় কী কোনো উদ্যোগ নেবে পাখিপ্রেমীরা?

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 01/06/2018

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.