নীল শুমচা | Blue pitta | Pitta cyanea

3152
নীল শুমচা | ছবি: ইন্টারনেট

বনচর, পরিযায়ী পাখি নীল শুমচা। নজরকাড়া রূপ। ত্রিভুজাকৃতির গড়ন। তুলনামূলক লেজ খাটো। পা লম্বা। চিরসবুজ অরণ্যের বাসিন্দা। বাঁশঝাড় বা লতা গুল্মাদির ভিতর নরম মাটি ঠোকরে খাবার খোঁজে। ঝরাপাতা উল্টিয়ে পোকামাকড় খায়। বিচরণ করে একাকী কিংবা জোড়ায়। স্বভাবে ভারি চঞ্চল। ওড়ার চেয়ে লাফায় বেশি। খুব ভোরে এবং গোধূলিলগ্নে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। রাতেও খাবার খোঁজে। অথচ রাতে খুব বেশি চোখে দেখে না। সুর সুমধুর। ডাকে ‘পিউ-হুয়িট…পিউ-হুয়িট…’ সুরে। সমগ্র বিশ্বে ১০ লাখ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এদের আবাস।

বাংলাদেশ ছাড়াও বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে। আই ইউ সি এন প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘নীল শুমচা’, ইংরেজি নাম: ‘ব্লু পিট্টা’ (Blue pitta), বৈজ্ঞানিক নাম: Pitta cyanea | এরা ‘আসমানি শুমচা’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য ২১-২৩ সেন্টিমিটার। লেজ ৬ সেন্টিমিটার। ওজন ১১০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা ভিন্ন। পুরুষ পাখির কপাল ও মাথার চাঁদির সামনের দিক সবজে-ধূসর। কপালে রয়েছে কালচে সরু ডোরা। মাথার তালু থেকে ঘাড়ের পেছনের দিক সিঁদুর লাল। পিঠ থেকে লেজ পর্যন্ত গাঢ় নীল। ঠোঁটের গোড়া থেকে শুরু করে চোখের উপর দিয়ে ঘাড়ের পেছন পর্যন্ত চওড়া কালো রেখা চলে গেছে। ডানার প্রান্ত পালক কালচে। গলায় অস্পষ্ট কালো দাগ। গলার নিচের অংশ হালকা হলুদের ওপর অসংখ্য কালো তিলা। বুকের নিচ থেকে নীল-সাদার মিশ্রণের ওপর অসংখ্য কালো তিলা। অপরদিকে স্ত্রী পাখির ঘাড়ের পেছনের পট্টি কালো রঙের। কাঁধ ঢাকনি কালচে-জলপাই রঙের। কোমর নীল। ডানা নীলাভ-জলপাই রঙের। উভয়ের ঠোঁট কালো। চোখ কালচে। পা ও পায়ের পাতা পাটকিলে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের পিঠ কালচে-বাদামি। দেহতলে ঘন ফিকে ডোরা।

প্রধান খাবার: ভূমিজ কীট, কেঁচো ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন সময়ের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে মাটিতে অথবা গাছের কাণ্ডে। বাসা গোলাকার। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস বা বাঁশপাতা। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন। শাবক উড়তে পারে ২০-২৫ দিনে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 07/12/2018