ক্ষুদে কাঠঠোকরা | Speckled Piculet | Picumnus innominatus

1208
ক্ষুদে কাঠঠোকরা | ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও দুর্লভ দর্শন ‘ক্ষুদে কাঠঠোকরা’। চেহারা অনেকটাই ‘ছোট বসন্ত বউরি’ পাখিদের মতো। পাখি পর্যবেক্ষক ব্যতীত প্রথম দর্শনে যে কেউই বসন্ত বউরি বলে ভুল করেন তাই। এরা অনেকটাই কুঁজো ধাঁচের, নাদুসনুদুস চেহারার অধিকারী। দেখা মেলে প্যারাবন, অর্ধ-চিরসবুজ বন, আর্দ্র পাতাঝরা বন কিংবা বাঁশঝাড়ে। তবে দেশে যত্রতত্র দেখা যায় না। কেবল কালেভদ্রে দেখা মেলে সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে এবং খুলনা বিভাগের প্যারাবনে।

প্রজাতিটি বিশ্বে বিপন্মুক্ত, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত। বাংলাদেশ ছাড়াও দেখা মেলে ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও চীনে। বেশিরভাগই এরা একাকী বিচরণ করে। মাঝেমধ্যে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। বিচরণকালীন গাছের চিকন ডালের চারপাশে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে, আর তীক্ষè কণ্ঠে ‘স্পিট..স্পিট..’ সুরে ডাকে। ক্ষুদে কাঠঠোকরা বৃক্ষচারী পাখি, প্রয়োজন ব্যতিরেকে ভূমি স্পর্শ করে না।

পাখির বাংলা নাম: ‘ক্ষুদে কাঠঠোকরা’, ইংরেজি নাম: ‘স্পেকলেড পিকুলেট’ (Speckled Piculet), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘Picumnus innominatus’। এরা ‘তিলা কুটিকুড়ালি’ নামেও পরিচিত। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মোট ২০ প্রজাতির কাঠঠোকরার দেখা মেলে।

প্রজাতিটি লম্বায় ১০ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে খানিকটা পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির কপাল অনুজ্জ্বল কমলা, মাথার চাঁদি হলুদ-জলপাই। স্ত্রী পাখির চাঁদি হলুদ-জলপাই। এ ছাড়া উভয়ের পিঠ হলদে-সবুজ। ডানার নিচে ছোট ছোট দাগ, পেছনে দিকে খাড়া চিতি যা ডোরার মতো দেখায়। দেহের নিচের দিকটা সাদাটের ওপর বড় বড় কালো ডোরা দাগ। লেজ কালো, বাইরের পালক সাদা। চোখের উপরে নিচে দুটি মোটা সাদা দাগ, যা ঘাড় হয়ে পিঠে গিয়ে ঠেকেছে। সাদা দুই দাগের মধ্যখানের দাগটি জলপাই রঙের। চোখ লালচে-বাদামি। ক্ষুদ্রাকৃতির ঠোঁটটি (১.১ সেন্টিমিটার) সেøট কালো। পা ও পায়ের পাতা অনুজ্জ্বল ফ্যাকাসে।

প্রধান খাবার: গাছ পিঁপড়া, লার্ভা ও পিউপা। প্রজনন মৌসুম জানুয়ারি থেকে এপ্রিল। বাসা বাঁধে গাছের খোড়লে। নিজেরাই গাছের মরা ডালে গর্ত বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১১-১২ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 11/07/2014

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.