উদয়ী বামনরাঙা | Oriental Dwarf Kingfisher | Ceyx erithaca

2076
উদয়ী বামনরাঙা | ছবি: ইন্টারনেট

প্রিয় পাঠক, ‘দৈনিক মানবকণ্ঠ’ পত্রিকায় এটি আমার শেষ লেখা ‘মাছরাঙা’ নিয়ে। ইতিমধ্যে ১২ প্রজাতির মাছরাঙা নিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে। কাজেই আর মাছরাঙা নিয়ে লেখার সুযোগ নেই। কারণ আমাদের দেশে শুধুমাত্র ১২ প্রজাতির মাছরাঙাই নজরে পড়ে। অপরদিকে সমগ্র বিশ্বে নজরে পড়ে মোট ৯৫ প্রজাতির মাছরাঙা। ফলে মাছরাঙা পাখি নিয়ে লেখা ফিচারের সমাপ্তি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় ঘটিয়ে দিলাম। আর হ্যাঁ, আজ যে প্রজাতিটি নিয়ে লিখছি ওদের নাম ‘উদয়ী বামনরাঙা’। এরা অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি। গ্রীষ্মকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনাঞ্চলে নজরে পড়ে।

বিশেষ করে পাতাঝরা অথবা চিরসবুজ বনের গাছের ছায়াময় এবং অপেক্ষাকৃত সরু নদীর উপরে উড়ে বেড়ায়। অথবা চিরসবুজ বনাঞ্চলের ভেতর প্রবহমান নদ-নদীর ওপর গাছের ঝুলন্ত ডালে শিকারের প্রতীক্ষায় দীর্ঘসময় বসে থাকে। শিকার প্রাপ্তির বিলম্বে টেনশনে ঘন ঘন মাথা ওঠানামা করতে থাকে তখন। আবার শিকার প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিলে লেজ খাড়া করে উচ্ছ্বাসও করতে দেখা যায়। বিচরণ করে একাকী। ওড়ার সময় তীক্ষ কণ্ঠে ‘চিচিচী…’ আওয়াজ করে। ‘উদয়ী বামনরাঙা’র বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রজাতিটি বিশ্বে বিপদগ্রস্ত। বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। তথাপিও বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘উদয়ী বামনরাঙা’, ইংরেজি নাম: ওরিয়েন্টাল ডয়ার্ফ কিংফিশার, (Oriental Dwarf Kingfisher), বৈজ্ঞানিক নাম: Ceyx erithaca |

দৈর্ঘ্য ১৩ সেন্টিমিটার। মাথা ও ঘাড় কমলা-বেগুনি রঙের। পিঠ, ডানা নীলচে কালো। কোমর ও লেজ কমলা রঙের। গলা সাদা। পেট কমলা-হলুদ। চোখ গাঢ় লাল। চোখের ওপর দিয়ে সাদাটান ঘাড়ে গিয়ে ঠেকেছে। ঠোঁট প্রবাল লাল। পা ও পায়ের পাতা কমলা লাল। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্কদের চেহারা ভিন্ন। ওদের মাথা গাঢ় কমলা। দেহ অনুজ্জ্বল। বুকে কমলা ফোটা রং। দেহতল হালকা নীল।

প্রধান খাবার: ছোট মাছ, কাঁকড়া, ঝিঁঝিপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। নদীর খাড়া পাড়ে নিজেরা টানেল আকৃতির সুড়ঙ্গ বানিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৭-১৮ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 24/04/2015

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.