সাদামুকুট চেরালেজি | White crowned Forktail | Enicurus leschenaulti

598
সাদামুকুট চেরালেজি | ছবি: ইন্টারনেট

লেজটা বাদ দিলে অনেকটাই দোয়েল পাখির মতো দেখতে। জ্ঞাতি ভাই কালোপিঠ চেরালেজি পাখিও দেখতে হুবহু একই রকম। পার্থক্য নিরূপণ করা সর্ব সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল আর্দ্র ক্রান্তীয় বনাঞ্চল। এ ছাড়াও জলস্রোত বয় এমন স্থানে বেশি পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বিচরণ আধিক্য। বিচরণ করে একাকী। স্ত্রী-পুরুষ পাখি একত্রিত হলেও পাশাপাশি কিংবা গা ঘেঁষে চলাফেরা করে না। খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটে। হেঁটে বেড়ানোর সময় এদের লেজটা ভূমি থেকে ওপরে উঠানামা করে বিশেষ ভঙ্গিতে।

প্রজাতির বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, দক্ষিণ চীন ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত। এরা বিশ্বে ভালো অবস্থানে নেই। ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে আইইউসিএন এদের চিহ্নিত করেছে।

পাখির বাংলা নাম: ‘সাদামুকুট চেরালেজি’, ইংরেজি নাম: ‘হোয়াইট-ক্রাউনড ফর্কটেইল’(White-crowned Forktail), বৈজ্ঞানিক নাম: Enicurus leschenaulti | এরা ‘ধলাচাঁদি চেরালেজ’ নামে পরিচিত।

গড় দৈর্ঘ্য লেজসহ ২৮ সেন্টিমিটার। ওজন ২৭-৩৮ গ্রাম। কপালে সাদা মুকুট। মাথার তালু, ঘাড়, পিঠের ওপরের অর্ধেক এবং গলা স্লেট কালো। পিঠের মাঝ বরাবর চওড়া ধবধবে সাদা টান কোমর হয়ে ওপাশে মিলিত হয়েছে। চওড়া সাদা দাগের পর থেকে আবার স্লেট কালো লেজের গোড়ায় ঠেকেছে। লেজ শরীরের তুলনায় বেশ বড়, লেজপ্রান্ত চেরা। লেজের পালক কালোর ওপর সাদাছিট। লেজের পাশ এবং অগ্রভাগ ধবধবে সাদা। বুকের নিচ থেকে লেজতল পর্যন্ত ধবধবে সাদা। চোখ ও ঠোঁট কালো। পা ও আঙ্গুল পীত বর্ণের।

প্রধান খাবার: কীটপতঙ্গ। ভূমিজ কীটের চেয়ে জলজ কীটপতঙ্গের প্রতি বেশি আসক্ত। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন। বাসা বাঁধে জলাশয়ের ধারে নুয়েপড়া গাছের কোটরে। ডিম পাড়ে তিন-চারটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 26/04/2017

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.