সিঁদুরে হলুদ মৌটুসি | Gould’s Sunbird | Aethopyga gouldiae

1127
সিঁদুরে হলুদ মৌটুসি | ছবি: ইন্টারনেট

স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় বিস্তর ফারাক। পুরুষ পাখির নজরকাড়া রূপ। প্রথম দর্শনেই যে কেউ মুগ্ধ হবেন। স্ত্রী পাখি সে তুলনায় একেবারেই নিষ্প্রভ। গায়ের রঙের ব্যবধানে মনে হতে পারে দুটি ভিন্ন প্রজাতির পাখি। কণ্ঠস্বর সুমধুর। ফুর্তিবাজ পাখি। সাংঘাতিক চঞ্চল। স্থিরতা নেই বললেই চলে। বেশিরভাগই একাকী বিচরণ করে। প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বন। ক্রান্তীয় আর্দ্র পার্বত্য অরণ্যে দেখা মেলে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত। আইইউসিএন এদের উদ্বেগ প্রজাতিকে চিহ্নিত করেছে।

পাখির বাংলা নাম: ‘সিঁদুরে-হলুদ মৌটুসি’, ইংরেজি নাম: ‘গোল্ডস সানবার্ড’ (Gould’s Sunbird), বৈজ্ঞানিক নাম: Aethopyga gouldiae। এরা ‘বেগম গোল্ডের মৌটুসি’ নামেও পরিচিত।

পুরুষ পাখি দৈর্ঘ্য ১৪-১৫ সেন্টিমিটার। স্ত্রী পাখি ১০ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির মাথা বেগুনি। ঘাড় ও পিঠ টকটকে-লাল। ডানা খয়েরি। কোমর আসমানী। লেজ নীলাভ। গলা বেগুনি। বুক উজ্জ্বল হলুদ। বুকের নিচ থেকে লেজতল পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত কম হলুদ রঙের। শরীরের তুলনায় লেজ বেশ লম্বা। অপরদিকে স্ত্রী পাখি মাথা ধূসর জলপাই। পিঠ গাঢ় জলপাই। ডানা ধূসর-কালো। লেজ খাটো ধূসর-কালো। উভয়ের ঠোঁট শিং কালো, লম্বা, কাস্তের মতো বাঁকানো। চোখ ও পা কালো।

প্রধান খাবার : ফুলের মধু, ছোট পোকামাকড়, মাকড়সা ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম মধ্য মার্চ। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। নাশপাতি আকৃতির বাসা। গাছের তন্তু, শ্যাওলা, মাকড়সার জাল দিয়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭দিন।

লেখক: আলমশাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 07/03/2017

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.