বাদামিবুক চটক | Brown breasted Flycatcher | Muscicapa muttui

1899
বাদামিবুক চটক | ছবি: ইন্টারনেট

চড়–ই আকৃতির পরিযায়ী পাখি। দেখতে আহামরি না হলেও চেহারাটা মায়াবী ধাঁচের। স্বভাবে শান্ত। কিছুটা ভিরু প্রকৃতির। উড়ন্ত পোকামাকড় এদের প্রধান শিকার। উড়ন্ত পোকামাকড় নজরে পড়লে ব্যতিব্যস্ত হয়ে শিকারের পিছু নেয়। বেশির ভাগই একাকী বিচরণ করে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ব্যতিত উত্তর-পূর্ব ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, দক্ষিণ চীন ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত। প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুঁচালো চিরহরিৎ বন। ভূপৃষ্ট থেকে ১৫০০ মিটারের উঁচুতেও এদের বিচরণ রয়েছে। তবে যেখানেই বিচরণ করুক না কেন জায়গাটা ঝোপঝাড় মুক্ত হওয়া চাই। বিশ্বে এদের অবস্থান তত সন্তোষজনক নয়, আবার অঞ্চলভেদে কিছুটা দুর্লভও।

পাখির বাংলা নাম: ‘বাদামিবুক চটক’, ইংরেজি নাম: ‘ব্রাউন ব্রেস্টেড ফ্লাইক্যাচার’ (Brown-breasted Flycatcher), বৈজ্ঞানিক নাম: Muscicapa muttui| এরা ‘মেটেবুক চুটকি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির দৈর্ঘ্য ১৩-১৪ সেন্টিমিটার। ওজন ১০-১৪ গ্রাম। মাথা, ঘাড়, পিঠ ও লেজের গোড়া পর্যন্ত জলপাই বাদামি (অনেক সময় মেটে বাদামি মনে হতে পারে)। ডানা এবং লেজের পালক উজ্জ্বল বাদামি। চিবুক ফ্যাকাসে বাদামি। গলা সাদা। বুক মেটে বাদামি। চোখের বলয় কালো, বলয়ের পাশে সাদাছোপ। ঠোঁট ত্বক বর্ণের সঙ্গে কালচে আভা। পা হলদে কমলা অথবা ফ্যাকাসে।

প্রধান খাবার: পতঙ্গ, মাছি বা ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন। গুল্মঝোপের ভেতর কাপ আকৃতির বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শৈবাল, তন্তু ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ৪-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৩-১৫ দিন। শাবক উড়তে শিখে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই।

লেখক: আলমশাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 24/02/2017