ইউরেশীয় গৃধিনী | Griffon Vulture | Gyps fulvus

1855
ইউরেশীয় গৃধিনী | ছবি: ইন্টারনেট

‘ইউরেশীয় গৃধিনী’ যাযাবর স্বভাবের পাখি। বিরল দর্শন। দেশে খুব কম দেখা যায়। সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলায় দেখা যাওয়ার নজির রয়েছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। অন্য সব প্রজাতির শকুনের মতো দেখতে ওরা কদাকার নয়। ঈগলাকৃতির চেহারা। খোলামাঠ প্রান্তরে বিচরণ করে। মাঝে মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ মিটার উচ্চতায়ও এদের দেখা যায়।

স্বভাবে তেমন হিংস নয়। কেবলমাত্র আক্রান্ত হলে আক্রমণ করে। একাকী, জোড়ায় কিংবা দলবেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। সব ধরনের মৃতদেহ ও সরীসৃপ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আবার বিষাক্ত মৃতদেহ খেয়ে নিজেদের জীবনাবসানও ঘটে। প্রজাতির অন্যদের তুলনায় এরা দীর্ঘজীবী। গড় আয়ু ৫০-৫৫ বছর। বাংলাদেশে বিরল দর্শন হলেও বিশ্বব্যাপী এরা ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত।

পাখির বাংলা নাম: ‘ইউরেশীয় গৃধিনী’, ইংরেজি নাম: ‘গ্রিফন ভালচার’, (Griffon Vulture), বৈজ্ঞানিক নাম: Gyps fulvus | এরা ‘পরিযায়ী গিদরি ও গ্রিফন শকুন,’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য কম-বেশি ৯৩-১২২ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানার দৈর্ঘ্য ২৪০-২৮০ সেন্টিমিটার। পুরুষ পাখির তুলনায় স্ত্রী পাখি খানিকটা বড়। মাথা ও ঘাড় তুলতুলে সাদা। পিঠ ও লেজ ঢাকনি বাদামি। ডানার প্রান্ত পালক কালো। ওড়ার পালকও কালো। গলা সাদা। দেহতল লালচে বাদামির ওপর স্পষ্ট রেখাযুক্ত। চোখ ফিকে হলুদাভ। শিং কালো রঙের এবং ঠোঁটের উপরের অংশ বড়শির মতো বাঁকানো। ঠোঁট থেকে হলুদাভ আভা বের হয়। পা ও পায়ের পাতা হলুদাভ কালচে। যুবাদের রং ভিন্ন।

সর্বভূক পাখি এরা। যে কোনো ধরনের মৃতদেহ বা উচ্ছিষ্ট খাবার এদের প্রধান খাদ্য। খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় না শামুক, পাখির ডিম, ছোট পাখি কিংবা সরীসৃপও। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। বাসা বাঁধে পুরনো উঁচু গাছের ডালে। বাসা বাঁধতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে ডালপালা, পশুর চুল, গাছের বাকল, হাড় ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ১-২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৫০-৫৫ দিন। যৌবনপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে বছর ছয়েক।

লেখক: আলমশাইন।কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 27/01/2017