সোনালি মাথা টুনি | Golden headed Cisticola | Cisticola exilis

1117
সোনালি মাথা টুনি | ছবি: ইন্টারনেট

আবাসিক পাখি। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ চীন ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। প্রাকৃতিক আবাসস্থল উপকূলীয় এলাকা, তৃণভূমি, জলাভূমির পাড়ের ঝোপঝাড়, লম্বা ঘাসবন ইত্যাদি। এ ছাড়াও কৃষি জমির আশপাশের ছোট গাছগাছালি কিংবা ঝোপজঙ্গলে বিচরণ করে। পারতপক্ষে উঁচু গাছে বিচরণ করে না। সারাদিন গুল্মলতাদির ফাঁকফোকরে নেচে গেয়ে কাটায়। স্বভাবে শান্ত হলেও চঞ্চল অস্থিরমতির পাখি এরা।

গানের গলা ভালো। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির হাঁকডাক বেড়ে যায়। এ সময় পুরুষ পাখির রঙেও খানিকটা পরিবর্তন আসে। চেহারাটা বেশ আদুরে দেখায় তখন। শরীরটাকে ফুলিয়ে বসে থাকলে দূর থেকে অনেক সময় গোলাকার কদমফুলের মতো দেখায়। প্রজাতিটি বিশ্বব্যাপী হুমকি না হলেও উপমহাদেশীয় অঞ্চলে যত্রতত্র দেখা যায় না। আইইউসিএন এদেরকে উদ্বেগ প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

পাখির বাংলা নাম: ‘সোনালি মাথা টুনি’, ইংরেজি নাম: গোল্ডেন-হেডেড কিস্টিকোলা (Golden-headed Cisticola), বৈজ্ঞানিক নাম: Cisticola exilis | এরা ‘ধলামাথা ছোটন’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির পুরুষ পাখি দৈর্ঘ্যে ৯-১১সেন্টিমিটার। গড় ওজন ৭-১০ গ্রাম। স্ত্রী পাখি দেখতে প্রায় একই রকম হলে আকারে সামান্য ছোট এবং কিছুটা নিষ্প্রভ। প্রজনন পালক ভিন্ন। এ সময় পুরুষ পাখির মাথা সোনালি কমলা, অন্য সময় মাথা ও ঘাড়ে সোনালি পালক। পিঠ ও ডানা গাঢ় বাদামি ডোরাকাটা। লেজ সোনালি বাদামির সঙ্গে কালো। দেহতল ক্রিম সোনালি। চোখ বাদামি। ঠোঁট সরু ওপরের অংশ কালচে নিচের অংশ ত্বক বর্ণের। পা গোলাপি ত্বক বর্ণের।

প্রধান খাবার: ছোট পোকামাকড়, ফড়িং, পিঁপড়া, মথ, শুঁয়োপোকা ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে আগস্ট। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। কাপ আকৃতির বাসা। বাসা বাঁধে নরম চিকন লতা, শিকড়, তন্তু ও তুলা দিয়ে। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

লেখক: আলমশাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 30/12/2016

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.