দেশি মেটেধনেশ | Indian Grey Hornbill | Ocyceros birostris

982
দেশি মেটেধনেশ | ছবি: ইন্টারনেট

দেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি অদ্ভুত গড়নের ‘দেশি মেটেধনেশ’। এক সময় রাজশাহী বিভাগের গ্রামীণ বনাঞ্চলে দেখা যেত। শুষ্ক বনভূমির উঁচু গাছ-গাছালিতে বিচরণ করত। হালে দেখা যাওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশ ছাড়াও এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে। বিশ্বে বিপন্মুক্ত হলেও দেশি মেটেধনেশ বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তথাপিও প্রজাতিটিকে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়নি।

আমাদের দেশে মোট চার প্রজাতির ধনেশের সাক্ষাৎ মেলে। এদের প্রতিটি প্রজাতিরই স্বভাব কিংবা খাবার একই ধরনের। ধনেশ প্রজাতির সবাই প্রজনন সময়ে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বসে। যেমন স্ত্রী পাখি স্বেচ্ছায় গাছের কোটরে ঢুকলে পুরুষ পাখি ওকে বন্দি করে রাখে। কোটরের মুখ বন্ধ করে দেয় কাদামাটি দিয়ে। পুরুষ পাখি নিজেই কাদামাটি বহন করে এনে ঠোঁট দিয়ে লেপে দেয়। শুধু ছোট্ট একটি ছিদ্র রাখে বায়ু চলাচল এবং খাবারের জোগান দিতে। পুরুষ পাখিকেই খাবারের জোগান দিতে হয় তখন। ডিম-বাচ্চা ফুটলেও খাদ্যের চাহিদা মেটায় পুরুষ পাখিই। শাবক স্বাবলম্বী হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরুষ পাখিকেই খাবার জোগানে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাচ্চারা ফুরফুরে হলে ভেতর থেকে মা পাখি ঠোঁট দিয়ে ঠুকরিয়ে মাটির আস্তর ফুটো করে বেরিয়ে আসে।

পাখির বাংলা নাম: ‘দেশি মেটেধনেশ’, ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান গ্রে হর্নবিল’ (Indian Grey Hornbill), বৈজ্ঞানিক নাম: Ocyceros birostris | এরা ‘পুটিয়াল ধনেশ’ নামেও পরিচিত।

লম্বায় ৬১ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে তেমন কোনো তফাত নেই। যেটুকু তফাত নজরে পড়ে সেটি হচ্ছে, স্ত্রী পাখির ঠোঁটের ওপরের বর্ম ছোট ও ঠোঁটের ডগা অস্পষ্ট। বাদ বাকি পুরুষ পাখির মতোই। প্রজাতির পিঠ বাদামি-ধূসর। শরীরের পালকগুলো দেখতে অনেকটাই বালুকাময় মনে হয়। দেহের নিম্নাংশ কালচে ধূসর। ধূসর লম্বা লেজের মধ্য পালকের প্রান্ত সাদা। চোখের ওপরের ভ্রু প্রশস্ত সাদা। কান ঢাকনি কালচে ধূসর। ঠোঁট বাঁকানো, সূচালো। ঠোঁটের ওপর শক্তপোক্ত সেøট-কালো রঙের শিরন্ত্রাণ। পা ও পায়ের পাতা সেøট-কালো। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঠোঁট হলুদ, শিরন্ত্রাণ নেই।

প্রধান খাবার: গিরগিটি, টিকটিকি, ইঁদুর, গুবরে পোকা, ফল ও ফুলের পাপড়ি। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন। গাছের প্রকৃতিক কোটরে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩৫-৩৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 26/09/2014

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.