বড় খোঁপাডুবুরি | Great Crested Grebe | Podiceps cristatus

1239
বড় খোঁপাডুবুরি | ছবি: ইন্টারনেট

পরিযায়ী প্রজাতির জলচর পাখি। স্বাদুজলে বিচরণ করে। বিরল দর্শন। এক সময় দেশের বড় জলাশয়, নদ-নদী এবং মোহনা অঞ্চলে দেখা যেত। হালে সে রকমটি নজরে পড়ে না। বিচরণ করে জোড়ায় জোড়ায়। ছোট অথবা মাঝারি দলেও নজরে পড়ে। সাঁতারে খুব পটু। ঘন ঘন ডুব সাঁতার দিয়ে জলাশয় মাতিয়ে রাখে। জনমানবের সাড়া পেলে মুহূর্তে চুপসে যায়। নিরাপদবোধ মনে না হলে জলাশয়ের ত্রিসীমানায় ঘেঁষে না।

খুব হুঁশিয়ারি পাখি, ভীতুও সাংঘাতিক। এতই হুঁশিয়ারি যে, ডিমে তা দেয়া থেকে উঠে যাওয়ার সময় ডিমের ওপর আগাছা দিয়ে ঢেকে রাখে। ফিরে এসে আগাছা সরিয়ে পুনরায় ডিমে তা দেয়। যেখানে বাসা বাঁধে সেখানে ডুবসাঁতার দিয়ে পৌঁছে। এদের গড়নও আজব। লম্বা গলা, মাথার ওপর খোঁপাবিশিষ্ট ঝুঁটি। লেজহীন। হাঁস আকৃতির হলেও ঠোঁট চেপ্টা নয়, সুচালো। ঠোঁট মাঝে মাঝে পিঠের পালকের ভেতর ঢুকিয়ে রেখে জলে ভেসে বেড়ায়, তখন দূর থেকে মনে হয় বুঝি কোনো ফুলের গুচ্ছ জলে ভাসছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি ইউরোপ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, উত্তর টেরিটরি, কুইন্সল্যান্ড, ক্রান্তিয় আফ্রিকা ও এশিয়া পর্যন্ত।

বাংলা নাম: ‘বড় খোঁপাডুবুরি’, ইংরেজি নাম: ‘গ্রেট ক্রেস্টেড গ্রিব’, (Great Crested Grebe), বৈজ্ঞানিক নাম: Podiceps cristatus | এরা ‘খোঁপাযুক্ত ডুবুরি’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য ৩৬-৬১ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ৫৯-৭৩ সেন্টিমিটার। ওজন ৮০০-১৫০০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে অভিন্ন। কপাল বাদামি-কালো। মাথার তালুতে খোঁপাকৃতির বাদামি-কালো ঝুঁটি। মাথার পেছন থেকে গলার উপরিভাগ মদ-বাদামি। লম্বা গলা ও ঘাড়ের দু’পাশ বাদামি-সাদা। দেহের উপরের দিকটা কালচে-বাদামি। পিঠের দু’পাশ লালচে-বাদামি। লেজ একেবারেই খাটো, নেই বললেই চলে। লেজের দেহতল বাদামি-সাদা। দেহের পালক রেশমী এবং নরম। ঠোঁট ছোট সুচালো, কালচে-বাদামি। চোখ লালচে-বাদামি। চোখের পাশটা সাদা। পা কালচে। নখ চওড়া এবং চেপ্টা। শীতে রং বদলায়। যুবাদের রং ভিন্ন।

প্রধান খাবার: ছোট মাছ। এছাড়াও ছোট ব্যাঙ জলজ পোকামাকড় শিকার করে। প্রজনন মৌসুম আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে ভাসমান জলজ ঝোপের ভেতর। ঝোপটি যেন ভেসে না যায় তার জন্য স্থায়ী আগাছা বা ঝোপের সঙ্গে বেঁধে রাখে বাসাটি। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৪-২৬ দিন। শরীরে পালক গজাতে সময় লাগে ১০-১১ সপ্তাহ।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 13/11/2015

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.