লম্বা ঠোঁটি শকুন | Slender billed Vulture | Gyps tenuirostris

3357
লম্বা ঠোঁটি শকুন | ছবি: ইন্টারনেট

ভয়ঙ্কর চেহারা হলেও স্বভাবে তত হিংস্র নয়। পারতপক্ষে তেড়ে এসে আক্রমণ করে না। বেশিরভাগই দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে। যে কোনো ধরনের মৃতদেহ বিশেষ করে গবাদি কিংবা বন্য পশুর মৃতদেহের সন্ধান পেলেই হামলে পড়ে। মানুষের উপকার করে ময়লা-আবর্জনা কিংবা উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে। মানব বসতি আছে এমন এলাকার কাছাকাছি বসবাস করে। মূলত প্রাকৃতিক আবাসস্থল নিচুভূমির খোলা বন অথবা আংশিক গাছ-গাছালি আছে এমন জায়গায় বিচরণ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ ১৫০০ মিটার উচ্চতায়ও দেখা যায়। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে উঁচুতেও বাসা বাঁধে।

দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত। বিশ্বে এরা ভালো অবস্থানে নেই। নেই বাংলাদেশেও। দেশে মুক্ত অবস্থায় একবার দেখেছি আমি। মুন্সীগঞ্জ নিবাসী প্রবাসী কবি বন্ধু তাহের ম. শায়েখ পাখি দেখতে একটা বাইনোকুলার পাঠিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওটার সদ্ব্যবহার করতে উঠেপড়ে লেগেছি বছর চারেক আগে। দূর-দূরান্তে ছুটে গিয়েছি তাই। সে সুবাদে প্রজাতির ছোট দলের সাক্ষাৎ মিলেছে একবার। মনে গেঁথে রেখেছি ওই দলটিকে আজও।

পাখির বাংলা নাম: ‘লম্বা ঠোঁটি শকুন’, ইংরেজি নাম: ‘সেলেন্ডার বিল্ড ভালচার’, (Slender-billed Vulture), বৈজ্ঞানিক নাম: Gyps tenuirostris | এরা ‘সরু ঠোঁটি শকুন’ নামেও পরিচিত। গ্রামগঞ্জের অনেকের কাছে এরা মেথর পাখি নামে পরিচিত।

দৈর্ঘ্য কম-বেশি ৮০-১০০ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ১৯০-২৬০ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন পার্থক্য নেই। মাথা, ঘাড় ও গলা কালো কুঁচকানো চামড়ায় আবৃত। চামড়ার ওপরে নিচে কিছু সাদা পালক রয়েছে। পিঠ ফ্যাকাসে। ডানার পালক বাদামি কালো এবং ফ্যাকাসে বাদামির সঙ্গে ডোরাকাটা। লেজ খাটো কালো। গলা লম্বা সাপের মতো। দেহতল সাদাটে ওপর হালকা খাড়া টান। ঠোঁট কালো, সরু, শক্ত মজবুত। উপরের ঠোঁটের অগ্রভাগ বড়শির মতো বাঁকানো। পা ধূসর কালো।

প্রধান খাবার: যে কোনো ধরনের মৃতদেহ বা উচ্ছিষ্ট খাবার। খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় না শামুক, পাখির ডিম, ছোট পাখি কিংবা সরীসৃপও। প্রজনন মৌসুম অক্টোবর থেকে মার্চ। বাসা বাঁধে পুরনো ঘর-দালানে কিংবা উঁচু গাছের ডালে সরু লাঠি দিয়ে। ডিম পাড়ে ১-২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩৯-৪৫ দিন। যৌবনপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে ৫ বছর।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 28/10/2016