লাললেজ মৌটুসি | Fire tailed Sunbird | Aethopyga ignicauda

2203
লাললেজ মৌটুসি | ছবি: ইন্টারনেট

আবাসিক পাখি। যত্রতত্র দেখা না গেলেও সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নজরে পড়ে। মনোহর রূপ। কণ্ঠস্বরও সুমধুর। প্রথম দর্শনেই যে কেউ মুগ্ধ হবেন। তবে সেটি অবশ্যই পুরুষ পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারায় বিস্তর তফাত রয়েছে। পুরুষের তুলনায় স্ত্রী পাখি অনেকটাই নিষ্প্রভ। রূপের এমন পার্থক্য সত্ত্বেও নবীন পাখি দেখিয়েদের পক্ষে স্ত্রী-পুরুষ শনাক্ত করা কঠিন।

‘লাল লেজ মৌটুসি’ নামের এই পাখি যথেষ্ট অস্থিরমতি ও ফুর্তিবাজ। সারা দিন নেচেগেয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। যেন কোথাও একদণ্ড বসার সময় নেই ওদের। বিশেষত পুরুষ পাখির চঞ্চলতায় মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। লাফালাফি বা নাচতে গেলে ওদের লম্বা লেজটা সোজা দাঁড়িয়ে যায়। সেই দৃশ্যটাও মনে রাখার মতোই। স্ত্রী পাখির লেজ খাটো হওয়ায় সেভাবে লেজের কারিশমা দেখাতে পারে না। প্রজনন মৌসুমে লাল লেজ মৌটুসির দেখা মেলে জোড়ায় জোড়ায়। আবার প্রজননের বাইরে একাকী দেখা যায়। মূলত এরা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। দেখা মেলে ক্রান্তীয় আর্দ্র পার্বত্য অরণ্যে। ভূপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উচ্চতায়ও এদের দেখা যাওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া এই পাখির বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও তিব্বত পর্যন্ত। হিমালয় অঞ্চলেও দেখা যায়।

পাখির বাংলা নাম: ‘লাললেজ মৌটুসি’, ইংরেজি নাম: ‘ফায়ার-টেইলড সানবার্ড’ (Fire-tailed Sunbird), বৈজ্ঞানিক নাম: Aethopyga ignicauda | এরা ‘আগুন-রঙের বৃহত্তম মৌটুসি’ নামেও পরিচিত।

এই প্রজাতির পুরুষ পাখি দৈর্ঘ্যে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার ও স্ত্রী পাখি সাত থেকে আট সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুরুষ পাখির মাথার রং নীলাভ। ঘাড় রক্ত লাল। পিঠ ও লেজ কমলা-লাল। ডানায় জলপাই রঙের সঙ্গে নীল টান। গলা নীলাভ কালচে। বুকে হলুদের ওপর কমলা-হলুদ রঙের ডিম্বাকৃতি টান। বুকের নিচ থেকে লেজতল পর্যন্ত জলপাই হলুদ। শরীরের তুলনায় লেজ বেশ লম্বা। অন্যদিকে স্ত্রী পাখির মাথা ধূসর জলপাই। পিঠ গাঢ় জলপাই। ডানায় নীলচে কালো পালক। লেজ খাটো ও বাদামি রঙের। উভয়ের ঠোঁট নীলচে কালো, লম্বা ও কাস্তের মতো বাঁকানো। চোখ ও পা কালো।

প্রধান খাবার: ফুলের মধূ, ছোট পোকামাকড়, মাকড়সা ইত্যাদি। পাখিটির প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত। তবে অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। মোচাকৃতির বাসা বাঁধে। বাসা বানায় গাছের তন্তু, শ্যাওলা ও মাকড়সার জাল দিয়ে। ডিম পাড়ে দুটি। তা দিয়ে ডিম ফুটাতে সময় লাগে ১৫ থেকে ১৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 18/05/2018

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.