বাংলা ঝাড়ভরত | Bengal Bush Lark | Mirafra assamica

1305
বাংলা ঝাড়ভরত | ছবি: ইন্টারনেট

ভরত গায়ক পাখি। খুব ভোরে গান গায়। বাসা বাঁধার সময় পুরুষ পাখি শূন্যে উড়ে মিষ্টি সুরে গাইতে থাকে। স্ত্রী পাখি তখন একদম চুপচাপ থাকে। ভরত পাখিদের বড় গুণটি হচ্ছে এরা নিজেদের গানের তালে চমৎকারভাবে নাচতে পারে। যা অন্য সব পাখির পক্ষে সম্ভব নয়। এরা ভূমিতে খুব একটা নাচে না। বেশিরভাগই নাচে শূন্যে উড়ে উড়ে। দূর থেকে দেখলে তখন মনে হয় বুঝি কেউ সুতায় বেঁধে ঝুলিয়ে নাচাচ্ছে ওদের। এরা নিয়মিত গোসালাদি করে। ধূলোস্নান বেশি পছন্দ। ফসল কাটা হয়েছে এমন ক্ষেতে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে।

প্রজাতিটি দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার পর্যন্ত। দেখতে অনেকটাই চড়ই এবং বাবুই পাখির মতো মনে হতে পারে। আকার-আকৃতিতেও সে রকম। যে পার্থক্যটা সহজে নজরে পড়ে সেটি হচ্ছে এদের পা লম্বা এবং খাটো লেজ। পাখি বিশারদ ব্যতিরেকে প্রজাতি শনাক্তকরণ দুরূহ বটে। প্রজাতির অবস্থান দেশে সন্তোষজনক।

পাখির বাংলা নাম: ‘বাংলা ঝাড়ভরত’, ইংরেজি নাম: ‘বেঙ্গল বুশলার্ক’ (Bengal Bush Lark), বৈজ্ঞানিক নাম: Mirafra assamica | এরা ‘বাংলা ভরত পাখি’ নামেও পরিচিত। দেশে সাত প্রজাতির ভরত দেখা যায়। তন্মধ্যে দুই প্রজাতি পরিযায়ী।

প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে ১৫-১৬ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকম হলেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে, যা শনাক্ত করা কঠিন। মাথা, ঘাড়, পিঠ ও লেজ হলুদাভ পাটকিলের ওপর কালচে চওড়া বুটিক। বুক, পেট ও লেজতল হলুদাভ ধূসর সঙ্গে লালচে আভা। ঠোঁট হালকা হলুদের সঙ্গে পোড়ামাটির আভা। চোখ লালচে বাদামি। পা ও পায়ের আঙ্গুল হলদেটে ত্বক বর্ণের।

প্রধান খাবার: ছোট পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, ধান, ঘাসের বীজ, কচি ঘাসের ডগা ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে আগস্ট। প্রজনন মৌসুমে দু’বার ডিম-বাচ্চা তোলে। বাসা বাঁধে ঘাসবনে অথবা নলবনে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস-লতা, শুকনো ধানপাতা, খড়কুটো ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১০-১৩ দিন। শাবক উড়তে শেখে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 12/08/2016

মন্তব্য করুন:

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.