লালগলা ডুবুরি | Red necked Grebe | Podiceps grisegena

2386
লালগলা ডুবুরি | ছবি: ইন্টারনেট

পরিযায়ী পাখি। শীতে দেখা মেলে। বিচরণ করে স্বাদুজলে। বিচরণ করে জোড়ায় জোড়ায়। মাঝেমধ্যে ছোট দলেও নজরে পড়ে। হ্রদ কিংবা বড় জলাশয়ে দেখা মেলে। সাঁতারে খুব পটু। পানকৌড়িদের মতো ঘন ঘন ডুব সাঁতার দিয়ে জলাশয় মাতিয়ে রাখে। জনমানবের সাড়া পেলে মুহূর্তে চুপসে যায়। নিরাপদবোধ মনে না হলে জলাশয়ের ত্রিসীমানায় ঘেঁষে না। খুব হুঁশিয়ারি পাখি। এতই হুঁশিয়ারি যে, ডিমে তা দেয়া থেকে উঠে যাওয়ার সময় ডিমের ওপর আগাছা দিয়ে ঢেকে রাখে। ফিরে এসে আগাছা সরিয়ে পুনরায় ডিমে তা দেয়। শত্রুর চোখ ফাঁকি দিতে ডুব সাঁতার দিয়ে বাসায় পৌঁছে। এদের লেজ নেই। হাঁস আকৃতির হলেও ঠোঁট চেপ্টা নয়, সুঁচালো। নিজ বাচ্চাদের নিরাপদ রাখতে পিঠে চড়িয়ে জলে ভেসে বেড়ায়।

বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, উত্তর-পশ্চিম ভারত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, জাপান, পূর্ব চীন সাগর, মঙ্গোলিয়া, পশ্চিম সাইবেরিয়া, পশ্চিম কানাডা, উত্তর-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যন্ত। সমগ্র বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক নয়।

প্রজাতির বাংলা নাম: ‘লালগলা ডুবুরি’, ইংরেজি নাম: ‘রেড-নেকেড গ্রিব’ (Red-necked Grebe), বৈজ্ঞানিক নাম: Podiceps grisegena | এরা ‘লালঘাড় ডুবুরি’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য ৪৩-৫৬ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ৬১-৮৮ সেন্টিমিটার। গড় ওজন ৬৯২-৯২৫ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে অভিন্ন। কপাল ও মাথার তালু কুচকুচে কালো। মাথার পেছনের পালক সামান্য লম্বা। ঘাড় ও গলা মরিচা লাল। ঘাড়ের মাঝ বরাবর কালো চওড়া টান দেখা যায়। চোখের নিচ থেকে অর্থাৎ থুঁতনি ও গাল ময়লা সাদা রঙের। পিঠ কালচে বাদামি। বুক লালচে বাদামি। পেট ধূসর সাদা। লেজ খাটো, নেই বললেই চলে। সুঁচালো ঠোঁটের উপরের অংশ কালচে। নিচের অংশ হলুদ রঙের। চোখের বলয় কালো। চোখের তারা গাঢ় বাদমি। পা সবজেটে। পায়ের পাতা চওড়া এবং চেপ্টা। প্রজনন পালক ভিন্ন।

প্রধান খাবার: ছোট মাছ, ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। এ ছাড়াও ছোট চিড়িং, ছোট ব্যাঙ, জলজ পোকামাকড় শিকার করে। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে ভাসমান জলজ ঝোপের ভেতর। ঝোপটি যেন ভেসে না যায় তার জন্য স্থায়ী আগাছা বা ঝোপের সঙ্গে বেঁধে রাখে বাসাটি। ডিম পাড়ে ২-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২০-২৩ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 19/02/2016