Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / ছোট ধলা বক

ছোট ধলা বক


ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকার দক্ষিণে আড়িয়াল বিলের অবস্থান। এটির বিস্তৃতি ৩টি উপজেলাব্যাপী (শ্রীনগর, দোহার ও নবাবগঞ্জ)। পদ্মা ও ধলেশ্বরীর মাঝামাঝিতে প্রায় ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার অবভূমি দখল করে নিয়েছে বিলটি। বিলের মোট আয়তন (শস্যক্ষেত, জলাশয় ও জনবসতি এলাকাসহ) প্রায় ২৬০ বর্গমাইল। ঐতিহাসিক বিলটি দেখার সুযোগ হয়েছে এবারের জন্মাষ্টমীর ছুটিতে। মিরকাদিম পৌরসভায় কর্মরত সব স্টাফ সেদিন ছুটি কাটিয়েছি আড়িয়াল বিলে গিয়ে। বৃহৎ আয়তনের বিলটি দেখে খানিকটা অভিভূত হয়েছি আমরা সবাই। লক্ষ্য করেছি বিশাল এলাকাজুড়ে জলের ব্যাপ্তি। জলে টইটুম্বুর হয়ে আছে সমগ্র বিল এলাকা। শুকনো ভূমি নেই খুব একটা। ভারি বর্ষণে বিলের কিনারা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে জলরাশি। মনে হচ্ছে জলচাপ সইতে না পেরে বিলটার শ্বাসরোধ হয়ে আসছে। নয়াজলের ছোঁয়া পেয়ে জলজ উদ্ভিদগুলো ওদের হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছে। তরতরিয়ে বেড়ে উঠেছে লতাগুল্মগুলো। নাম না-জানা হরেক রকম জলজ ফুলের হাসি দেখে মোহিত হয়ে পড়েছি আমরা। বিলের বুকে শাপলা-শালুক, চাঁদমালা ও কচুরি ফুলসহ আরো কত জলজ ফুল দেখেছি ওইদিন তা বলে শেষ করার নয়। মৎস্য শিকারিদের বিভিন্ন কায়দায় মাছ ধরতেও দেখেছি।
দেখেছি বেশকিছু প্রজাতির পাখি। বিশেষ করে জলচর পাখিদের আনাগোনাটা ছিল লক্ষণীয়। এর মধ্যে ‘ছোট বক’-এর দেখা পেয়েছি যত্রতত্র। এরা শিকারের প্রতীক্ষায় কচুরিপানা কিংবা জলদামের ওপরে সাধুসন্ন্যাসীর বেশে দাঁড়িয়ে শিকার খুঁজছে। একটা ধবধবে সাদা ছোট বককে ভেসাল জালের ওপরে উড়ে উড়ে শিকার ধরতে দেখেছি। সাধারণত এ রকমটি খুব কমই দেখা যায়। কারণটা হচ্ছে এদের প্রভূত ধৈর্যশীলতা। পারতপক্ষে হন্যে হয়ে শিকার খোঁজে না এরা। তাই অন্যসব জলচর পাখির চেয়ে ওর প্রতি আমার আগ্রহটা একটু বেশিই ছিল বোধকরি। ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে নেমে শুকনো ভূমিতে দাঁড়িয়ে পাখিটার কীর্তি দেখেছি কিছুটা সময় লাগিয়ে। বিষয়টা মনে গেঁথে রেখে পাখিটার পরিচিতি তুলে ধরেছি পাঠকদের কাছে।

এ পাখির বাংলা নাম : ‘ছোট বক’, ইংরেজি নাম : ‘লিটল ইগ্রেট’ (Little egret). বৈজ্ঞানিক নাম : ‘ইগ্রেটা গারজেটা’ (Egretta garzetta), গোত্রের নাম : ‘আরডিদি’। এরা ‘ছোট ধলা বক’ নামেও পরিচিত।

দেশে পরিজায়ীসহ প্রায় ১৫-১৮ প্রজাতির বক নজরে পড়ে। এরা লম্বায় ৫৫-৫৬ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৫০-৪০০ গ্রাম। দেহের গড়ন লম্বাটে চিকন। দেহের সমস্ত পালক ধবধবে সাদা। ঠোঁট সরু, লম্বা ও কালো। পা লম্বা, কালো।

প্রজনন মৌসুমে মাথার ঝুঁটির পালক পিঠের ওপর দিয়ে ঝুলে পড়ে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

মৎস্যভুক পাখি এরা। এ ছাড়াও ব্যাঙ, জলজ পোকামাকড় ও ঘাসফড়িং শিকার করে।
প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। জলাশয়ের কাছাকাছি গাছগাছালিতে দলবদ্ধ হয়ে বাসা বাঁধে। কলোনি টাইপ বাসা। বাসা বাঁধতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে চিকন শুকনো ডালপালা। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২১-২৫ দিন। শাবক সাবলম্বী হতে সময় নেয় ৪০-৪৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: মানবকণ্ঠ, 30/08/2013

আরো পড়ুন