Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / ধলাগলা মাছরাঙা

ধলাগলা মাছরাঙা


ছবি: ইন্টারনেট।

নেচার কনজারভেশন কমিটিতে (এনসিসি) যোগ দেয়ার পর থেকেই মূলত নিয়মিত বন-বনানী, বন্যপ্রাণী ও জলাশয়ের নির্মম পরিণতি পর্যবেক্ষণ করি। ছুটে যাই দূর দূরান্তে, যোগ দেই বিভিন্ন সেমিনারেও। এ সব নিয়ে আবার লেখালেখিও করতে হয়। যার কারণে পারিবারিক ঝুটঝামেলা আমাকে স্পর্শ করার সুযোগ পায় না। পরিবারের লোকজন কিছুটা ক্ষিপ্ত তাই আমার ওপরে। বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ ডা. মো. মিজানুর রহমান। সেদিন তার রিকাবী বাজারের চেম্বারে ফ্রি চিকিৎসা নিতে গেলে আমার অসুস্থ কন্যার খোঁজ-খবর নেন তিনি। জানতে চান, ডাক্তার দেখিয়েছি কিনা … ইত্যাদি ইত্যাদি …। আমি ‘হ্যাঁ’ সূচক মিথ্যে জবাব দিয়েছি। জিজ্ঞেস করেন পাখ-পাখালিদের কথাও। সে ক্ষেত্রে কিন্তু মিথ্যে বলিনি। ব্যস্ততার মাঝেও ওইদিন তিনি জানতে চেয়েছেন ‘সোনাবউ এবং মাছরাঙা’ পাখি সম্পর্কে। তাকে কথা দিয়েছি যথাসময়ে জানিয়ে দেব সব। সে সুবাদে আজকের পাখি পরিচিতিতে ‘ধলাগলা মাছরাঙা’ নিয়ে লেখার অবতারণা।
প্রিয় পাঠক, ধলাগলা মাছরাঙা সুলভ দর্শন আবাসিক পাখি। বাংলাদেশ ছাড়াও বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন পর্যন্ত। দেশে এদের বেশিরভাগ বিচরণ উপকূলীয় অঞ্চলের জলাশয়ের কাছাকাছিতে। এ ছাড়াও শুষ্ক পাতাঝরা বনের প্রান্তদেশে কিংবা আবাদি জমির আশপাশে উড়ে বেড়াতে দেখা যায়। দেখা যায় বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকতেও। বিচরণকালীন সময়ে একাকী কিংবা জোড়ায় জোড়ায়ও দেখা যায়। কণ্ঠস্বর কর্কশ। উড়তে উড়তে চেঁচিয়ে ওঠে ‘কে-কে-কে’ সুরে। মনটা ভালো থাকলে শিস মেরে ‘কিলিলিলি… ’ সুরে গান গায়। বিশ্বে ব্যাপক নজরে পড়ে বিধায় আইইউসিএন প্রজাতিটিকে বিপন্মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘ধলাগলা মাছরাঙা’, ইংরেজি নাম: ‘হোয়াইট থ্রোটেড কিংফিশার’ (White-throated Kingfisher), বৈজ্ঞানিক নাম: Halcyon smyrnensis.বাংলাদেশে মোট ১২ প্রজাতির মাছরাঙা দেখা যায়।

এরা লম্বায় ২৮ সেন্টিমিটার। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড় গাঢ় বাদামি রঙের। পিঠ থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত উজ্জ্বল নীল। সবুজ ডানার উপরের দিকটা গাঢ় বাদামি, মাঝখানে কালচে পালক। থুতনি, গলা ও বুকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধবধবে সাদা। বুকের নিচ থেকে বস্তিপ্রদেশ পর্যন্ত কালচে বাদামি। শক্তপোক্ত ঠোঁট কমলা লাল। চোখের মণি বাদামি, বলয় লালচে। পা ও পায়ের পাতা প্রবাল-লাল। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে তেমন কোনো তফাৎ নেই।

প্রধান খাবার ছোট ইঁদুর, পঙ্গপাল, ফড়িংসহ অন্যান্য পোকামাকড়। মাছের প্রতিও আসক্তি রয়েছে।

প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন। জলাশয়ের খাড়া পাড়ে নিজেরা গর্ত খুঁড়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২০ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: মানবকণ্ঠ, 02/08/2014

আরো পড়ুন