Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / লালতলা প্রিনা

লালতলা প্রিনা

ছবি: ইন্টারনেট।

‘মেটেবুক প্রিনা’ নিয়ে গত সংখ্যায় লিখেছি। আজ ওদের জ্ঞাতি ভাই ‘লালতলা প্রিনা’ নিয়ে লিখছি। উভয়ই স্থানীয় প্রজাতির পাখি। সিøম গড়ন। মায়াবী চেহারার। তবে লালতলা প্রিনা আকারে খানিকটা বড়। স্বভাবে চঞ্চল। কণ্ঠস্বর তত সুমধুর নয়। বাদবাকি আচরণ মেটেবুক প্রিনার মতো। তবে এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যতীত ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল। প্রিয় পাঠক, এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ। নিজের জন্য একটি আনন্দের সংবাদ। বোধ করি আপনাদের কাছে কিছুটা হলেও ভালো লাগবে। কথাসাহিত্যে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য গত সপ্তাহে আমাকে ‘বিজয় দিবস সম্মাননা-২০১৭’ প্রদান করে ক্যানভাস অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম ইয়াছিন আলী ভাই। তার আরেকটি পরিচয় হচ্ছে, তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যপাতায় লেখালেখি করেন। তবে তিনি নিজেও একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ; হয়তো বিবেচনায় রেখেছেন আমাকে তাই। এ ফিচারের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম তাকে। যাই হোক, ফিরে যাচ্ছি নিয়মিত লেখায়।

পাখির বাংলা নাম: ‘লালতলা প্রিনা’, ইংরেজি নাম: ‘রুফাস ভেন্টেড প্রিনিয়া’ (Rufous-vented Prinia), বৈজ্ঞানিক নাম: Prinia burnesii। এরা ‘জলাভূমির লেজ-তোলা টুনি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৭ সেন্টিমিটার। ওজন ১৯ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন হলেও পুরুষ পাখির রঙে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখি গাঢ় বাদামী রঙের। স্ত্রী পাখি হালকা বাদামি। উভয়ের লেজ লম্বা, কালচে বাদামি। লেজতল লালচে। দেহতল বাদামি-সাদা। ঠোঁট খাটো, জলপাই কালচে। চোখ বাদামি। পা ও পায়ের পাতা হলুদাভ ত্বক বর্ণের।

প্রজনন পালক ভিন্ন। প্রধান খাবার: কীটপতঙ্গ, পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম আগস্ট-সেপ্টেম্বর। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। ভূমি থেকে এক-দেড় মিটার উঁচুতে গাছেরপাতা পেঁচিয়ে কাপ আকৃতির বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১০-১১ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 29/12/2017

আরো পড়ুন