Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / সাদামাটা নাকুটি

সাদামাটা নাকুটি

ছবি: ইন্টারনেট।

আবাসিক পাখি হলেও দেশে যত্রতত্র দেখা মেলে না। প্রাকৃতিক আবাস্থল খোলা মাঠ-প্রান্তর, কৃষি জমি এবং জলাশয়ের আশপাশ। ছোট-বড় দলে বিচরণ করে। বাসাও বাঁধে দলবদ্ধ হয়ে। টানেল আকৃতির বাসা। অন্তত ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার সেই টানেলের দৈর্ঘ্য। চেহারা তত আকর্ষণীয় নয়। চেহারায় কিছুটা হিংস তার ছাপ ফুটে উঠলেও আসলে ওরা হিংস নয়। কণ্ঠস্বর শ্রুতি মধুর নয়, বিরক্তিকর। অস্থিরমতির পাখি। উড়ন্ত পতঙ্গ শিকারের উদ্দেশ্যে সারাদিন ওড়াউড়ি করে। বিরতিহীন ওড়াউড়ি। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ব্যতিত উপমহাদেশীয় বিভিন্ন অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব চীন, মরোক্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত। বিশ্বে প্রজাতিটি তেমন সন্তোষজনক না হলেও হুমকি নয়।

পাখির বাংলা নাম: ‘সাদামাটা নাকুটি’, ইংরেজি নাম: ‘পেল মার্টিন’ (Pale Martin), বৈজ্ঞানিক নাম: Riparia diluta। এরা ‘ম্লান নাকুটি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১২-১৩ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষের চেহারা অভিন্ন। মাথা, ঘাড়, পিঠ ও লেজ বাদামী। তবে ডানা এবং লেজের প্রান্ত পালক গাঢ় বাদামী। ডানা লম্বা, লেজের প্রান্তে মিশেছে। দেহতল সাদা হলেও গলা বুকের মাঝ বরাবর বাদামী ছোপ। চোখ কালো। ঠোঁট খাটো, কালো। পা কালো, নখ বড় বড়।

প্রধান খাবার: উড়ন্ত পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। কলোনি টাইপ বাসা। পাহাড়, নদ-নদীর পাড়ে মাটির খাড়া দেওয়ালের গর্তে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ফোটে ১২-১৩ দিনে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 11/10/2017

আরো পড়ুন