Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / চেরালেজ বাতাসি

চেরালেজ বাতাসি

ছবি: ইন্টারনেট।

বিরল দর্শন পরিযায়ী পাখি। চেহারায় হিংস্রতার ছাপ লক্ষ করা যায়। তবে ততটা হিংস্র নয়। আক্রান্ত হলে কেবল আক্রমণ করে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল পার্বত্য এলাকায়। এ ছাড়াও জলাশয়ের কাছাকাছি বিচরণ করে। দেশে শীতে পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। ছোট-বড় দলে সারাদিন উড়ে বেড়ায়। উড়ন্ত অবস্থায় এদের ঠোঁট, মাথা ও লেজ সমান্তরাল থাকে। ফলে দূর থেকে মাথা এবং লেজ শনাক্ত করা কঠিন হয়। শুধু উড়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার কারণে মাথা-লেজ শনাক্ত করা যায়। শরীরের তুলনায় ডানা লম্বা থাকার কারণে উড়ন্ত অবস্থায় ডানা নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। লেজ মাছের লেজের মতো মধ্যখানে চেরা। কণ্ঠস্বর কর্কশ, জোরে জোরে শিস দেয়। মাঝেমধ্যে জোড়ায়ও দেখা যায়। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, সাইবেরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত।

পাখির বাংলা নাম: ‘চেরালেজ বাতাসি’, ইংরেজি নাম: ‘ফর্ক-টেইলড সুইফট’ (Fork-tailed Swift), বৈজ্ঞানিক নাম: Apus pacificus। অনেকের কাছে এরা ‘পার্বত্য বাতাসি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৭-১৮ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ৪৩-৫৪ সেন্টিমিটার। পুরুষ ওজন ৪২ গ্রাম। স্ত্রী ওজন ৪৪ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন। কপাল কালো পালিশ করা। ঘাড় বাদামি কালো। পিঠ নীলাভ কালো। কোমর সাদা। লেজ কালো। গলা সাদাটে। দেহতল কালোর সঙ্গে সাদার মিশ্রণ, অনেকটাই মাছের আঁশের মতো দেখায়। ঠোঁট কালো, ছোট। ঠোঁটের অগ্রভাগ কিঞ্চিত বাঁকানো। পা ছোট। পায়ের তুলনায় নখ বড় এবং ধারালো।

প্রধান খাদ্য: উড়ন্ত পোকামাকড়, পিঁপড়া।

প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। অঞ্চলভেদে ভিন্ন। বাসা বাঁধে কাঁটাওয়ালা গাছে। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ বস্তু; বিশেষ করে সরু লতা, তন্তু দিয়ে কাপ আকৃতির বাসা বাঁধে। মুখের লালা দিয়ে বাসা জোড়া দেয়। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 22/09/2017

আরো পড়ুন