Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / বাদামি ঈগল

বাদামি ঈগল

mk141016

শিকারি পাখি। শীতে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিযায়ী হয়ে আসে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া পূর্ব ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুমানিয়া, মঙ্গোলিয়া, উত্তর-পূর্ব চীন, দক্ষিণ তিব্বত, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (শীতকাল) পর্যন্ত। স্বভাবে হিংস্র। অন্যসব ঈগলদের মতোই শিকার খোঁজে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৩০০ মিটার উঁচুতেও দেখা যায়। বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক নয় বিধায় আইইউসিএ প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। প্রিয় পাঠক, দেশের প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ যাবৎ চার শতাধিক পাখি নিয়ে ফিচার লিখেছি। তš§ধ্যে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় আজকের ফিচারটা নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে। পত্রিকাটিকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না তাই।

পাখির বাংলা নাম: ‘বাদামি ঈগল’, ইংরেজি নাম: ‘স্টেপ ঈগল’ (Steppe Eagle), বৈজ্ঞানিক নাম: Aquila nipalensis। কোনো কোনো পাখি বিশারদের কাছে এরা ‘নেপালি ঈগল’ নামে পরিচিত। তবে কেন এ নামকরণ তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

প্রজাতি দৈর্ঘ্যে ৬২-৮১ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ১৬০-২০০ সেন্টিমিটার। ওজন পুরুষ পাখি ২-৩.৫ কেজি। স্ত্রী পাখি ২.৩-৪.৯ কেজি। মাথা ও গলা কপি বাদামি। পিঠ পাঁশুটে বাদামি। ডানার প্রান্ত পালক ক্রিম সাদা। ওড়ার পালক কালচে। কোমরের পালক ক্রিম সাদা। লেজ কালচে বাদামি। বুক ও পেট পাঁশুটে বাদামি। ঠোঁট শিং কালো শক্ত মজবুত, অগ্রভাগ বড়শির মতো বাঁকানো। ঠোঁটের গোড়া এবং মুখের কিনার হলুদ। পা বাদামি পালকে আবৃত। পা ও পায়ের পাতা হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম হলেও স্ত্রী পাখি আকারে সামান্য বড়।

প্রধান খাবার: মাছ, সাপ, কাঁকড়া, ব্যাঙ, ইঁদুর, সরীসৃপ ও ছোট পাখি। এ ছাড়াও সব ধরনের টাটকা এবং গলিত মাংস খায়।

প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুলাই। তবে স্থানভেদে প্রজনন ঋতুর হেরফের দেখা যায়। বাসা বাঁধে বড় গাছের উঁচু ডালে। ডালপালা দিয়ে বড়সড়ো অগোছালো বাসা বানায়। এক বাসায় বহু বছর ধরে ডিম বাচ্চা তোলে। ডিম পাড়ে ১-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৪০-৪৫ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে ৫৫-৬৫ দিন। প্রজননক্ষম হতে সময় লাগে ৪-৫ বছর।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 14/10/2016

আরো পড়ুন