Home / দৈনিক মানবকণ্ঠ / তামাপিঠ লাটোরা

তামাপিঠ লাটোরা

mk050216

অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশ ছাড়া বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান ও তুরস্ক পর্যন্ত। বিচরণ করে আবাদি জমি, বনপ্রান্তরের খোলা মাঠে এবং ঝোপ-জঙ্গলের কাছাকাছি এলাকায়। পতঙ্গ শিকারের উদ্দেশ্যে এতদস্থানে ওড়াউড়ি করে। এ ছাড়াও বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছের ডালে বসে শিকারের প্রতীক্ষায় সময় কাটায়। স্বভাবে হিংসুটে। স্বজাতির কেউ নিজ সীমানার কাছাকাছি এলে সহ্য করতে পারে না, চেঁচিয়ে বিদায় করে।

প্রিয় পাঠক, এবার অন্য প্রসঙ্গে। মুন্সীগঞ্জের একজন জনপ্রিয় মানুষ জেলার প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল এবং জেলা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘আলোর প্রতিমা’ সম্পাদক মাহবুব আলম জয়, দু’জন মিলে ঠিক করলেন ‘আলোর প্রতিমা সম্মাননা-২০১৪’ আমাকে ভূষিত করবেন। কারণ আমি বন-বনানী ও বন্যপ্রাণীকে ভালোবাসি তারই প্রতিদান দিতে চায় সংগঠনটি। বিষয়টা শুনে সম্মতি দিয়েছি। তারা দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে পর্যন্ত। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার সিদ্ধান্তটা বদলে ফেললেও তাদের আন্তরিকতার বিষয়টি আজ অবধি ভুলতে পারিনি। ভুলতে পারিনি তাদের ভালোবাসার কথাও। আসলে প্রকৃতিকে ভালোবাসলে যে সেটি বৃথা যায় না তা জানান দেয়ার চেষ্টা করলাম মাত্র। প্রচার কিংবা প্রসারের উদ্দেশ্যে এটি জানান দেয়া নয়। জানান দিয়েছি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে। যেমনটি নিজ সন্তান কিংবা মা-বাবাকে ভালোবাসেন। তাহলে প্রতিদান পেয়ে যাবেন আপনিও। যাই হোক, আবার পাখি প্রসঙ্গে ফিরে যাচ্ছি।

পাখিটির বাংলা নাম: ‘তামাপিঠ লাটোরা’, ইংরেজি: ইন্ডিয়ান বে-ব্যাকড শ্রাইক (IdeanBay-backed shrike), বৈজ্ঞানিক নাম: Lanius vittatus। এরা ‘লালচে-পিঠ কসাই’ নামেও পরিচিত।

এরা দৈর্ঘ্যে কমবেশি ১৭-১৮ সেন্টিমিটার। ওজন ২০-২৮ গ্রাম। কপাল কালো। মাথা ফিকে ধূসর, ঘাড় গাঢ় ধূসর। পিঠের মধ্যখানটা তামাটে বাদামি। পাশের দিকে কালোর ওপর সাদা ছোপ। লেজ কালো। গলা সাদাটে। দেহতল বাদামি সাদা। স্ত্রী পাখির কপালের কালো অংশটুকু সরু। উভয়ের চোখ বাদামি। কালচে বাদামি। পা ময়লা কালচে।

প্রধান খাবার ফড়িং, পঙ্গপাল, ঝিঁঝিঁ পোকা, টিকটিকি ইত্যাদি।

প্রজনন মৌসুম জুন থেকে জুলাই। বাসা বাঁধে ভূমি থেকে ৪ মিটার উচ্চতায় গাছের ডালে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস, পশম, মাকড়সার জাল ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 05/02/2016

আরো পড়ুন