Home / দৈনিক কালেরকণ্ঠ / কমলাপেট হরবোলা

কমলাপেট হরবোলা

kk061214

‘কমলাপেট হরবোলা’ বাংলাদেশের আবাসিক পাখি। সুদর্শন-স্লিম গড়নের প্রজাতিটি পাহাড়ি এলাকার চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। বিচরণ করে পারিবারিক দলে। একাকীও দেখা যায় মাঝেমধ্যে। স্বভাবে ভারি চঞ্চল। কোথাও এক দণ্ড চুপচাপ বসে থাকতে নারাজ। একবার গাছের এ ডালে তো পরক্ষণেই ওই ডালে উড়ে বেড়ায়। ব্যস্ততায় সময় কাটিয়ে দেয় সারা দিন গাছগাছালিতে ঘুরে। অবশ্য এরই মধ্যে সংগ্রহ করে নেয় পোকামাকড় কিংবা ফুলের মধু।
কমলাপেট হরবোলার বড় গুণ হচ্ছে এরা সহজে যেকোনো পাখির ডাক নকল করতে পারে (সব ধরনের হরবোলা ডাক নকল করতে পারদর্শী)। আবার নিজেরাও ডাকে সমধুর সুরে ‘শিওয়াটশিশি-শিওয়াটশিশি-শিওয়াটশিশি…’ আওয়াজে। এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, হংকং ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত। বাংলাদেশে যত্রতত্র দেখার নজির নেই। কেবল চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে দেখা মেলে। বিশ্বে এদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এ জন্য আইইউসিএন প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত পাখি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত।
পাখিটির বাংলা নাম ‘কমলাপেট হরবোলা’। ইংরেজিতে ডাকা হয় অরেঞ্জ বেলিড লিফবার্ড (Orange-bellied Leafbird) নামে। আর বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis hardwickii। এরা ‘কমলাপেট পাতা বুলবুলি’ নামেও পরিচিত। যদিও বুলবুলি গোত্রের বা প্রজাতির নয়, তথাপিও ওই নামে পরিচিত অনেকের কাছেই। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হরবোলা দেখা যায়- নীলডানা হরবোলা, কমলাপেট হরবোলা ও সোনাকপালি হরবোলা।
কমলাপেট হরবোলা লম্বায় ১৮ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির কপাল, মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের পেছনের দিকটা হলদে-সবুজ। গলা ও বুুক কালো। পিঠ পাতা-সবুজ। ডানা সবুজ, প্রান্তপালক কালচে। লেজের পালকও কালচে। বুকের নিচ থেকে তলপেট পর্যন্ত ফিকে কমলা। ঠোঁটের রং কালো, নিচের দিকে বাঁকানো। অন্যদিকে স্ত্রী পাখির মাথা ও ঘাড় নীলচে। পিঠ থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত সবুজ। বুকের মধ্যখানটা কমলা হলেও দেহতল
হলদে-সবুজ। ঠোঁট শিঙ-বাদামি। উভয় পাখির চোখের রং বাদামি। পা ও পায়ের পাতা স্লেট ধূসর। অপ্রাপ্তবয়স্করা দেখতে অনেকটাই স্ত্রী পাখির মতো।

প্রজাতিটির প্রধান খাবার ছোট ফল, ফুলের মধু ও পোকামাকড়।

প্রজনন মৌসুম মে থেকে আগস্ট মাস। ভূমি থেকে ৮-১০ মিটার উঁচুতে গাছের ডালে সরু লতা, শুকনো ঘাস, গাছের আঁশ ও মাকড়সার জাল দিয়ে পেয়ালা আকৃতির বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে দুই থেকে তিনটি। আর ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮ থেকে ২০ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: কালেরকণ্ঠ, 06/12/2014

আরো পড়ুন