Home / দৈনিক ইত্তেফাক / কালোবুক বাটান

কালোবুক বাটান

if120116

পরিযায়ী প্রজাতির পাখি। বৈশ্বিক বিস্তৃতি রাশিয়া, পশ্চিম ইউরোপের উপকূল, আইসল্যান্ড, গ্রীনল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রান্তীয় দক্ষিণ অঞ্চল পর্যন্ত। উপমহাদেশে আগমন ঘটে শীতে। চেহারা ও স্বভাবে গো-বেচারা। মাথা খানিকটা বেঢপ সাইজের। বিচরণ করে নদ-নদী এলাকার সৈকতে। এ ছাড়াও জলাশয়ের কিনারেও দেখা যায়। বালিয়াড়ি, কাদাময় অথবা পাথুরে এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে-ফিরে খাবার খোঁজে। বড়জোর অগভীর পানিতে নেমে পোকামাকড় ধরে। ছোট চিংড়ির প্রতি এদের আসক্তি রয়েছে। সেক্ষেত্রেও নিজের হাঁটু পানির বেশি নামে না। কিনারে দাঁড়িয়ে যা পায় তা খেয়ে নেয়। বেশিরভাগই একাকী কিংবা জোড়ায় দেখা যায়। খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে প্রায় সারাক্ষণ। লেজ কাঁপিয়ে ঘনঘন পা ফেলে দৌড়ায়। আবার দৌড়াতে গিয়ে হঠাত্ থেমে যায়। এ সময় তীক্ষসুরে চেঁচিয়েও উঠে। স্থিরতা এদের মাঝে নেই বললেই চলে।

বাংলা নাম:‘কালোবুক বাটান’, ইংরেজি নাম:‘কমন রিংগেড প্লোভার’, (Common Ringed Plover) বৈজ্ঞানিক নাম: Charadrius hiaticula। এরা ‘পাতি নথজিরিয়া’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ কমবেশি ১৭-১৯ সেন্টিমিটার। ওজন ৫২ গ্রাম। কপালে সাদারেখা। ধূসর-বাদামি রঙের মাথায় কালোপট্টি। ঘাড়ে সাদা-কালো বন্ধনী। দেহের উপরের অংশ ধূসর-বাদামি। লেজের প্রান্ত পালক কালো। চোখের চারপাশে কালো মাস্ক। গলায় কালো বন্ধনী ওপরে সাদারেখা। বুক, পেট ও বস্তি প্রদেশ সাদা। স্ত্রী-পুরুষ পাখির রঙে তেমন পার্থক্য নেই। ঠোঁটের অগ্রভাগ কালো, বাদবাকি কমলা-হলুদ। চোখ জোড়া কালো। পা ও পায়ের পাতা হলুদাভ-কমলা। পায়ে আঙ্গুলের সংখ্যা ৩টি। প্রজনন পালক ভিন্ন। এ সময় ঠোঁট কালো দেখায়। এ ছাড়া শরীরের কালো অংশগুলো ধূসর-বাদামিতে রূপ নেয়।

প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন। বাসা বাঁধে পাথুরে এলাকার ভূমিতে। ছোট ছোট পাথর দিয়ে থালাকৃতির বানিয়ে ৩-৪টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন। শাবক উড়তে শেখে ২৫ দিনের মধ্যে। প্রজননক্ষম হতে সময় লাগে প্রায় ১ বছর।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 12/01/2016

আরো পড়ুন