Home / বাংলাদেশ প্রতিদিন / কমলা-নীল ফুলঝুরি

কমলা-নীল ফুলঝুরি

ছবি: ইন্টারনেট।

সুদর্শন আবাসিক পাখি। পুরুষ পাখির নজরকাড়া রূপ। স্ত্রী পাখি দেখতে নিষ্প্রভ। ভিন্ন প্রজাতির মনে হয়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের আর্দ্র নিম্নভূমির বন। এ ছাড়াও ক্রান্তীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনে দেখা মেলে। দেশে যত্রতত্র নজরে পড়ে না। স্বভাবে ভারি চঞ্চল। কোথাও এক দণ্ড বসে থাকার সময় নেই। ছোট গাছ-গাছালি কিংবা লতাগুল্মের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে সুমধুর কণ্ঠে শিস কাটে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাই পর্যন্ত।

পাখির বাংলা নাম: ‘কমলা-নীল ফুলঝুরি’, ইংরেজি নাম: ‘অরেঞ্জ বেলিড ফ্লাওয়ারপেকার’(Orange-bellied flowerpecker) বৈজ্ঞানিক নাম: Dicaeum trigonostigma। কেউ কেউ এদের ‘কমলাপেট ফুলঝুরি’ নামে ডাকে।

দৈর্ঘ্য কমবেশি ৮-৯ সেন্টিমিটার। গড় ওজন ৫-৬ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা আলাদা। পুরুষ পাখির কপাল, ঘাড়, ডানা ও লেজ নীল। মাঝে-মধ্যে ডানায় ও লেজে কালোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পিঠ উজ্জ্বল কমলা। গলা নীলচে সাদা। বুক ও পেট উজ্জ্বল কমলা। চোখের বলয় ও মণি নীলচে কালো। ঠোঁট মোটা চকচকে কালচে। পা নীলচে কালো। অন্যদিকে স্ত্রী পাখির মাথা, ঘাড় ও পিঠ ধূসরাভ-জলপাই। ডানার প্রান্ত পালকে কারও-সাদা টান। গলা ধূসর। বুক ও পেট হলদে ধূসর। ঠোঁট ও পা কালচে। প্রধান খাবার ফুলের মধু ও ছোট ফল।

প্রজনন মৌসুম জানুয়ারি-মে। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। ভূমি থেকে দুই-আড়াই মিটার উঁচুতে গাছের ডালে অথবা গুল্মলতা আচ্ছাদিত ঝোপে ঝুলন্ত থলে আকৃতির বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে গাছের নরম তন্তু, তুলা, শ্যাওলা ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

লেখক: আলমশাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 21/11/2017

আরো পড়ুন