Home / বাংলাদেশ প্রতিদিন / দেশি চাঁদিঠোঁট

দেশি চাঁদিঠোঁট

ছবি: ইন্টারনেট।

পাখির বাংলা নাম: ‘দেশি চাঁদিঠোঁট’। ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান সিলভারবিল (Indian Silverbill)’। বৈজ্ঞানিক নাম: Lonchura malabarica। এরা ‘ছোট মুনিয়া’ নামেও পরিচিত।

এ পাখির বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরান, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও ইসরায়েল পর্যন্ত। তবে উপমহাদেশীয় অঞ্চলে রয়েছে ব্যাপক বিস্তৃতি। এরা ছোট-বড় দলে বিচরণ করে। একাকীও চলে। এমনিতে ভারি চঞ্চল, অস্থিরমতি পাখি। প্রাকৃতিক চারণভূমি ঘাসবন। রাতে বিশ্রাম নেয় মাঝারি আকৃতির গাছের ডালে। কাঁটাঝোপে এদের বেশি পরিলক্ষিত হয়। জোড়ায় জোড়ায় গায়ের সঙ্গে গা মিলিয়ে রাত কাটায়। অঞ্চলভেদে সুলভ দর্শন এ পাখি।

দেশি চাঁদিঠোঁট প্রজাতির দৈর্ঘ্য ১১-১১.৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৯-১১ গ্রাম। মাথা, ঘাড় ও পিঠ বাদামি। ডানার প্রান্ত পালক কালচে-বাদামি। কোমর সাদা। লেজ কালো-বাদামি। লেজের অগ্রভাগ সুচালো। গলা সাদা হলেও ধবধবে নয়। বুক থেকে লেজতল সাদাটে-বাদামি। চোখের মণি গাঢ় পাটিকিলে। ত্রিকোণাকৃতির ঠোঁট, উপরের ঠোঁট কালচে রুপালি। নিচের ঠোঁট রুপালি। পা ময়লা গোলাপি। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন।

এদের প্রধান খাবার শস্যবীজ, আগাছার কচি ডগা। এ ছাড়াও ছোট পোকামাকড় এরা খায়।

প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। কাঁটাঝোপ, কাশবন অথবা নল খাগড়ার বনে বাসা বাঁধে এরা। শুকনো খড় লতাপাতা বাসা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে। ডিম পাড়ে ৪-৮টি। ফুটতে সময় লাগে ১১-১৩ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 29/07/2017

আরো পড়ুন