বেগুনি পাপিয়া | Violet Cuckoo | Chrysococcyx xanthorhynchus

82

if280813ছবি: ইন্টারনেট।

আমাদের এ দেশেরই পাখি তবে খুব একটা দেখা যায় না। সিলেটের চিরসবুজ বনে কিছু কিছু দেখা যায় তাও কালেভদ্রে কিছুটা। বাংলাদেশ ছাড়াও এদের বিস্তৃতি রয়েছে পূর্ব ভারত, ভুটান, দক্ষিণ চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে। অন্য প্রজাতির পাপিয়াদের চেয়ে এদের চলাফেরা কিছুটা ভিন্ন রকম। সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বা ছোট দলে বিচরণ করে, যা অন্য জাতের পাপিয়াদের ক্ষেত্রে নজরে পড়ে না। গাছের মগডালে চুপচাপ বসে থাকে শিকারের প্রতীক্ষায়। শিকার ধরে খুব দ্রুত পূর্বের অবস্থানে চলে আসে। প্রজনন মৌসুমে ‘চি-উইক চি-উইক’ সুরে সারাদিন গান গায়। পূর্ণিমা রাতে এরা বন মুখর করে তোলে গান গেয়ে। তখন তা শুনতে ভারী ভালো লাগে।

পাখির বাংলা নাম:‘বেগুনি পাপিয়া’, ইংরেজি নাম: ‘ভায়োলেট কুকু'(Violet Cuckoo), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘Chrysococcyx xanthorhynchus’| গোত্রের নাম:‘কুকুলিদি’।

বেগুনি পাপিয়া লম্বায় ১৭ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষের বর্ণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির মাথা, ঘাড়, গলা ও বুক বেগুনি বর্ণের। পেটের দিকটা সাদা-বেগুনি মিশ্রিত ডোরা দাগ। ডানা পালিশ করা বেগুনি। লেজের ডগা সাদাটে। ঠোঁট উজ্জ্বল কমলা। স্ত্রী পাখির পিঠ সবুজাভ ব্রোঞ্জ। লেজ সবুজাভ, ডগা সাদাটে। বুকের নিচের দিকে সাদা-সবুজাভ-ব্রোঞ্জের ডোরা। ঠোঁট হালকা হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ পাখির উভয়ের চোখের বলয় লাল। পা ও পায়ের পাতা বাদামি সবুজ।

প্রধান খাবার কীটপতঙ্গ। শুঁয়োপোকার প্রতি আকর্ষণ বেশি। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুন। নিজেরা বাসা বানাতে পারে না কোকিলের মত অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। বিশেষ করে মৌটুসি পাখির বাসা ওদের বেশি পছন্দ। ডিমের সংখ্যা ১-২টি। ধাত্রী মাতার আশ্রয়েই শাবক লালিত হয়।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 28/08/2013

আরো পড়ুন