মেটেমাথা কাঠকুড়ালি | Grey headed woodpecker | Picus canns

685

if170913ছবি: ইন্টারনেট।

আমাদের দেশের প্রায় সমস্ত এলাকাতেই এদের দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগের বনাঞ্চলে দেখা মেলে। ইউরোপ থেকে শুরু করে চীন, হিমালয় অঞ্চল, সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এদের বিচরণ ক্ষেত্র। বহু পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লেও এরা বিশ্বে বহাল তবিয়তে আছে। এদের একাকী অথবা জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকে। গাছের গুঁড়িতে বা ডালে ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে খাবার খুঁজে বেড়ায়। মাঝে মধ্যে মাটিতে নেমেও এদের উইঢিবিতে ঠোঁট ঢুকিয়ে দিতে দেখা যায়। কর্মব্যস্থতার ফাঁকে উচ্চকণ্ঠে ডাকে ‘পীক, পীক, পীক, পীক…’। প্রজনন মৌসুমে গাছের মরা ডাল দেখলে ফাঁপা জায়গা খুঁজতে ঠোঁট দিয়ে ড্রাম বাজানোর মতো শব্দ করে। জায়গাটা পছন্দ হলে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানিয়ে নেয়।

পাখিটার বাংলা নাম: মেটে মাথা কাঠঠোকরা বা মেটেমাথা কাঠকুড়ালি | ইংরেজি নাম: ‘গ্রে-হেডেড উডপেকার'(Grey-headed woodpecker), বৈজ্ঞানিক নাম:‘Picus canns’| গোত্রের নাম:’পাইকিদি’।

লম্বায় ৩২ সেন্টিমিটার। ওজন ১৪০ গ্রাম। মাথা মেটে বা ধূসর বর্ণ। গলা থেকে ঠোঁটের নিচে কালো ডোরা। থুতনি ও গলা ধূসরাভ-ছাই বর্ণের। পিঠ সবুজাভ। ডানার পালক কালচে-বাদামি। পালকের শলাকায় সাদা ডোরা। লেজ কালো। দেহতল ধূসর-সবুজ। চোখ গাঢ় লাল-বাদামির মিশ্রণ। ঠোঁট স্লেটকালো। স্ত্রী-পুরুষ পাখির সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির কপাল উজ্জ্বল লাল। ঘাড় কালো। স্ত্রী পাখির কপাল ও ঘাড় কালো। এর মধ্যে ধূসর ছিটদাগ। যুবক পাখির বর্ণ ভিন্ন। ওদের পিঠ ধূসর এবং দেহতল ডোরাসাদা। আমাদের দেশে নানা ধরনের কাঠঠোকরা নজরে পড়ে।

প্রধান খাবার উইপোকা, গাছ পিঁপড়া, লার্ভা ইত্যাদি। কদাচিত্ ফুলের মধুও পান করে। প্রজনন সময় মে থেকে জুন। মরাগাছে গর্ত করে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৪-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৬-১৮ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 17/09/2013

আরো পড়ুন