নীলকান বসন্তবউরি | Blue eared Barbet | Megalaima australis

811

if200414ছবি: ইন্টারনেট।

এদেশেরই পাখি তবে এখন দুর্লভ। আগের মত আর চোখে পড়ে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রশস্ত পাতার চিরসবুজ বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের হিমালয় অংশের পূর্বভাগ, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও এরা বাস করে। বেশির ভাগ সময় একাকী বিচরণ করে, তবে মাঝেমধ্যে জোড়ায় জোড়ায়ও দেখা যায়। বৃক্ষচারী পাখি। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি গোধূলিলগ্নে ‘কু-টুরর..কু-টরর’… সুরে ডাকাডাকি করে। নীলকান বসন্ত বউরি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘নীলকান বসন্ত বউরি’, ইংরেজিত নাম: ‘ব্লু-ইয়ার্ড বারবেট'(Blue-eared Barbet), বৈজ্ঞানিক নাম: Megalaima australis| দেশে পাঁচ রকমের বসন্ত বউরি’র সাক্ষাত্ মেলে। যথাক্রমে: নীলগলা বসন্ত বউরি, বড় বসন্ত বউরি, ছোট বসন্ত বউরি, দাগি বসন্ত বউরি ও নীলকান বসন্ত বউরি।

লম্বায় ১৭-১৮ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৫ গ্রাম। মাথার দু’পাশে ও পেছনে লাল পট্টি। গলা ও কান নীল। ঠোঁটের গোড়া হলুদ-সবুজ। ঠোঁট শিঙ-বাদামি। নিচের ঠোঁট থেকে গলার পাশে কারো ডোরা। দেহের উপরের দিকটা ঘাস-সবুজ। বুক থেকে নিচের দিকে হলদে-সবুজ। পা ও পায়ের পাতা ময়লা সবুজ। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মাথার পাশের লাল পট্টি দেখা যায় না।

প্রধান খাবার ছোট বুনোফল। বট-পাকুড়, দেবদারু, বকুল, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, জামরুল ইত্যাদি ফলের প্রতি আসক্তি বেশি। ফল সংকটে পোকামাকড়েও ভাগ বসায়। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন। মরা গাছের ডালে গর্ত বানিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 20/04/2014

আরো পড়ুন