গো শালিক | Asian Pied Starling | Sturnus contra

977

if151213ছবি: ইন্টারনেট।

এদেশেরই পাখি। এখনো বেশ দেখা যায়। সমতল ছাড়া পাহাড়ের পাদদেশেও এদের দেখা মেলে। বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক এলাকাতেও এদের বিচরণ যথেষ্ট। মানুষের কাছাকাছি বিচরণ করলেও বাড়ি-ঘর থেকে দূরেই থাকে। ভাত শালিক কিংবা ঝুঁটি শালিক মানুষের ঘরের চালে, বাড়ির অঙিনায় স্বচ্ছন্দে চরে বেড়ায়। গো-শালিকের পছন্দ খোলা মাঠ-প্রান্তর। সারাদিন মাঠে-ঘাটেই ঘুরে বেড়ায়।

গবাদি পশুর পুরানো গোবর ঘেঁটে পোকামাকড় শিকার করে। গবাদি পশুর কাছে পিঠে ঘোরাঘুরি করে বলে লোকে একে বলে গো-শালিক। আবার গবাদি পশুর পিঠে চড়ে খানিকটা ঘুরেও বেড়ায়। কণ্ঠস্বর মিষ্টি। স্বভাবে ফুর্তিবাজ। ভালো পোষও মানে। শেখালে কথাও বলতে পারে, তবে ভাত শালিকের মতো অত পারদর্শী নয়।

এ পাখির বাংলা নাম: ‘গো-শালিক’, ইংরেজি নাম: ‘এশিয়ান পায়েড ষ্টার্লিং'(Asian Pied Starling), বৈজ্ঞানিক নাম: Sturnus contra| গোত্রের নাম: ‘ষ্টুরনিদি’।

দেশে প্রায় ১০ প্রজাতির শালিক নজরে পড়ে। যথাক্রমে: গো-শালিক, ভাত শালিক, ঝুঁটি শালিক, গাঙ শালিক, পাতি কাঠশালিক, গোলাপি কাঠশালিক, চিতিপাখ গো-শালিক, খয়রালেজ কাঠশালিক, বামুন কাঠশালিক ও ধলাতলা শালিক। গো-শালিক লম্বায় ২২-২৩ সেন্টিমিটার। মাথা, গলা ও ঘাড় কালো। চোখের নিচ থেকে ঘাড় পর্যন্ত সাদা পট্টি। পিঠ ধূসর কালো। ডানায় সাদা টান। দেহের নিম্নাংশের পালক সাদা। ঠোঁটের গোড়া গাঢ় কমলা, অগ্রভাগ সাদাটে। পা হলদেটে। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম। প্রজনন মৌসুমে উভয়েরই ঠোঁটের বর্ণ বদলায়। অবশ্য সবার ক্ষেত্রে সেটি না-ও ঘটতে পারে।

প্রধান খাবার পোকামাকড় ও কেঁচো ইত্যাদি। এ ছাড়াও পারিজাত (মাদার) ও শিমুল ফুলের মধু এদের পছন্দ। প্রজনন সময় মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর। বাসা বাঁধে কাঁটাওয়ালা গাছে। এছাড়াও টেলিগ্রাফ টেলিফোনের থাম-তারের সংযোগস্থলে অগোছালো বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস, লতাপাতা, দড়ি, কাপড়ের টুকরো ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 15/12/2013

আরো পড়ুন