দেশি গাঙচষা | Indian Skimmer | Rynchops albicollis

660

ছবি: গুগল |

তিনি আমার প্রিয় মানুষদের একজন। ‘প্রকৃতি ও জীবন’ নামক অনুষ্ঠানটি প্রতি সপ্তাহে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় দেখার সুযোগ হচ্ছে তারই কল্যাণে। তিনি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, পরিচালক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই। নাম মুকিত মজুমদার বাবু। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও তিনি প্রকৃতিকে ভীষণ ভালোবাসেন। প্রকৃতির খোঁজে চষে বেড়ান বন-বাদাড় কিংবা হাওর-বাঁওড় ও চরাঞ্চল। এবং তা জানান দেন প্রকৃতি-প্রেমিদের। তার সঙ্গে রয়েছেন লেখক, বন্যপ্রাণী গবেষক তুষার কান্তি সরকার। তিনি মাঝেমধ্যে প্রকৃতি সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন আমাদের। সম্প্রতি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিলে ‘গাঙচষা’ পাখি সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। যতদূর জানতে পেরেছি এরা বিপন্ন প্রজাতির পাখি। আইইউসিএন এ প্রজাতির পাখিকে সংকটাপন্ন বলে ঘোষণা করেছে।

‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে’ এ প্রজাতির পাখি সংরক্ষিত। এক সময়ে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওসে এদের দেখা যেত। সম্প্রতি এতদাঞ্চলে গাঙচষা নজরেই পড়ে না। জানা যায়, সমগ্র বিশ্বে এদের অবস্থান মোটেই সন্তোষজনক নয়। ‘বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল’ উল্লেখ করেছে বিশ্বে গাঙচষা পাখির আনুমানিক সংখ্যা ৪০০০ থেকে ৬৭০০টি। তবে বাংলাদেশে এ পাখির বিচরণ রয়েছে। শীতে পদ্মা, মেঘনার চরাঞ্চলে এবং হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা-মোক্তারিয়া চ্যানেল ও দমারচরে এদের দেখা মেলে। এটি নিঃসন্দেহে পাখিপ্রেমীদের জন্য একটি সুখবর। এরা ঝাঁক বেঁধে বড় নদীর মোহনার ওপর উড়ে উড়ে শিকার খোঁজে। এ পাখির বড় গুণ হচ্ছে দেহটাকে না ভিজিয়েই শিকার ধরতে পারে। পরিশ্রান্ত হলে বালুচরে বিশ্রাম নেয় এক পায়ে দাঁড়িয়ে। ওভাবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। ভোর ও গোধূলিলগ্নে শিকার ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ওরা উড়তে উড়তে ‘ক্যাপ-ক্যাপ-ক্যাপ..’ সুরে ডাকে।

এই পাখির বাংলা নাম: ‘দেশি গাঙচষা’, ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান স্কিমার’ (Indian Skimmer), বৈজ্ঞানিক নাম: Rynchops albicollis |

লম্বায় ৪০ সেন্টিমিটার (ডানা ৩৭ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৭.৭ সেন্টিমিটার)। ঠোঁটের আকৃতি ছুরির মতো লম্বাটে। নিচের ঠোঁটের তুলনায় ওপরের ঠোঁট সামান্য খাটো। ঠোঁটের গোড়া প্রবাল লাল। ডগা কমলা। মাথা ও ঘাড় কালো। কপাল ও গলা সাদা। কাঁধ, ডানা, লেজের উপরিভাগ কালো। প্রজনন মৌসুমে পিঠ কালচে বাদামি দেখায়। ডানার প্রান্ত সাদা। গলার নিচ থেকে লেজের তলা পর্যন্ত ধবধবে সাদা। চোখ বাদামি। পা সিঁদুরে লাল। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

দেশি গাঙচষা পাখি মৎস্যভুক। মাঝেমধ্যে জলজ পোকামাকড়ও শিকার করে। প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত। বাসা বাঁধে নদীর আশপাশে। সাধারণত বালি খুঁড়ে এরা বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৪টি।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 06/09/2013

আরো পড়ুন