বুলবুলি | Red vented bulbul | Pycnonotus cafer

1412

ছবি: গুগল |

ছোট ভাইয়ের উদ্যোগে আমাদের বাগানবাড়ির চারপাশটা কাঁটাতারের বলয়ে আবদ্ধ হয়েছে। ফলে প্রায় চার একর জায়গা পাখ-পাখালিদের জন্য নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে খানিকটা মুগ্ধ হয়েছি তাই। হরেক প্রজাতির পাখিদের আনাগোনায় আত্মতৃপ্তি বোধ করেছি। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী দারুণ প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিদের যত্নআত্তি করে ভীষণ। প্রতিদিন সকালে ভাত ছিটিয়ে দেয় উঠানে। খাবারে ভাগ বসায় বুলবুলি, সিপাহি বুলবুলি, ভাত শালিক, দোয়েল, তিলা ঘুঘু ও কাকসহ নানা প্রজাতির পাখি। দেখে আমি অভিভূত হয়েছি ভীষণ। বাড়ির ছোটদের সে সামলিয়ে রাখে, যাতে করে পাখিদের বিরক্ত করতে না পারে ওরা। ছোট ভাইয়ের ছোট্ট মেয়ে স্নেহা আমাকে ‘পাতি বাবা’ (পাখি বাবা) নামে ডাকে। ভাগিনা অভি ডাকে ‘পাখি মামা’ নামে। ওদের বিশ্বাস আমি পাখিদের কাছে ডেকে আনতে পারি এবং কাজটি নাকি মন্ত্রবলে করি।

আসলে পাখি যে আদর পেলে ঘাড়ে চেপে বসে তা ওদের জানা নেই। ওরা প্রমাণ পেয়েছে আমার হাতে একটা কোকিল ছানা দেখে। আবার একটা বুলবুলিকে হাত বাড়িয়ে খাবার খাইয়ে ওদের কাছে রীতিমতো বিস্ময়ে পরিণত হয়েছি। বাড়িতে অসংখ্য বুলবুলির বিচরণ। ওরা ঘরে ঢুকে পড়ে নির্ভয়ে। খাবার-দাবার ঢেকে না রাখলে অনিষ্ট করে প্রচুর। নিরাপত্তা পেয়ে সাহস বেড়ে গেছে বহুগুণ, অবাদে চলাফেরা করে তাই। এরা শুধু আমার বাড়িরই নয়, দেশের যে কোনো বাড়ির আশপাশে থাকতে পছন্দ করে। বিশেষ করে মানুষের কাছাকাছি থাকাটা ওদের বেশি পছন্দ। মানুষকে ওরা বন্ধু ভাবে। বুলবুলি গায়ক পাখি। গান গায় ‘টিউ-টু-টুল’ সুরে। সুর শুনতে মন্দ নয়। স্বভাবে চঞ্চল। চেহারাটা রাগী রাগী হলেও ঝগড়াটে নয়। থাকে জোড়ায় জোড়ায়। বিচরণরত অবস্থায় ভাবের আদান-প্রদান করে।

পাখির বাংলা নাম: ‘বুলবুলি’, ইংরেজি নাম: রেড-ভেনটেড বুলবুল’ (Red-vented bulbul), বৈজ্ঞানিক নাম:‘পিকনোনোটাস কাফের’ (Pycnonotus cafer), গোত্রের নাম:‘পিকনোনোটিদি’। এরা বাংলা বুলবুলি নামেও পরিচিত।

দেশে কয়েক প্রজাতির বুলবুলি দেখা যায়। তন্মধ্যে সিপাহি বুলবুলি, বুলবুলি, কালোঝুঁটি হলদে বুলবুলি বেশি নজরে পড়ে। লম্বায় ১৮-২০ সেন্টিমিটার। মাথায় কালো ঝুঁটি। গলা কালো। কানপট্টি গাঢ় বাদামি। ঘাড়, বুক কালচে বাদামি। ডানা পাটকিলে, মাছের আঁশের মতো দেখতে। তলপেট সাদাটে। লেজের তলা উজ্জ্বল লাল। লেজের ডগা পাটকিলে হলেও প্রান্তটা সাদা। পা ও ঠোঁট কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

বুলবুলিদের প্রধান খাবার ফুলের মধু, ছোট ফল, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি। বাড়ির পাশে বিচরণকারী বুলবুলিরা ভাত খায়। প্রজনন সময় মে থেকে জুলাই। মাটি থেকে কয়েক মিটার উঁচুতে গাছের তে-ডালের ফাঁকে পেয়ালা আকৃতির বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে সরু শিকড়বাকড়। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটে ছানা বেরুতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 23/08/2013

আরো পড়ুন