দেশি কানিবক | Indian Pond Heron | Ardeola grayii

1028

ছবি: গুগল |

স্থানীয় বাসিন্দা। সুলভ দর্শন। এ প্রজাতির পাখি মানুষের কাছে অতি পরিচিত। দেশে বেশ ভালো অবস্থানেও রয়েছে এরা। গ্রামাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে এদের রয়েছে ব্যাপক বিচরণ। জলাশয়ের কিনারে বা ঝোঁপের ভেতর ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনো রকম শিকারের অনাগোনা নজরে পড়লেই ওদের তীক্ষè চঞ্চুটা তরবারির মতো চালিয়ে দেয়। শিকার দর্শন না পেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যানমগ্নের ন্যায় কাটিয়ে দেয়। এরা বেশির ভাগই একাকী শিকারে বের হয়। আবার কখনো কখনো দলবদ্ধ হয়েও শিকারে বের হয়। তবে যে যেখানেই থাকুক না কেন, রাত কাটায় দলবদ্ধভাবেই। বিশেষ করে বাঁশগাছে রাত্রিযাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বাসাও বাঁধে বেশিরভাগ বাঁশগাছেই। দর্শন সহজলভ্য বিধায় এরা শিকারিদের খপ্পরে পড়ে বেশি। গুলি ছাড়াও ফাঁদ পেতে দেশি কানিবক শিকার করে গ্রামের দুষ্ট ছেলেরা। পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এরা শিকারির কবলে পড়ে।

নান্দাইলের তারাটি গ্রামের ‘চৌহাবিলে’ এদের ব্যাপক দর্শন ঘটে। সেটি জানিয়েছেন অধ্যাপক অরবিন্দ পাল অখিল। তিনি নান্দাইল উপজেলার সমূর্ত্ত জাহান মহিলা কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং নান্দাইল অ্যামেচার বার্ড ওয়াচার গ্রুপের উপদেষ্টা। তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন চৌহাবিলে পাখি পর্যবেক্ষণে যেতে। পাশাপাশি জানিয়েছেন, ফেব্র“য়ারি ২০১৪ সালে ওই কলেজে পাখি পরিচিতির জন্য একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন তারা। আমি যেন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকি সে অনুরোধও আগাম জানিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি ‘সবুজ সাথী কিন্ডার গার্টেন’-এর শিক্ষার্থীদের নিয়ে চৌহাবিলে পাখি পর্যবেক্ষণে গিয়েছেন। সেখানে তারা হরেকরকম পাখপাখালি পর্যবেক্ষণ করেন, আমাকে সেটি অবহিতও করেছেন।

এ পাখির বাংলা নাম: ‘দেশি কানিবক’, ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান পন্ড হেরন’ (Indian Pond Heron), বৈজ্ঞানিক নাম: (Ardeola grayii)। এরা কোঁচবক, কানিবক বা কানাবক নামেও পরিচিত।

এরা লম্বায় ৪৬ সেন্টিমিটার। মাথা, গলা ও বুক বাদামি-সাদা ডোরার মিশ্রণ। পিঠ ধূসর বাদামি। বুকের নিচ থেকে লেজ পর্যন্ত সাদা। চোখের তারা হলুদ। ঠোঁট লম্বা তীক্ষè। ঠোঁটের গোড়া হলদেটে, অগ্রভাগ কালচে। পা হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার মাছ। এছাড়াও ছোট ব্যাঙ, জলজ পোকামাকড় শিকার করে। প্রজনন সময় মধ্য জুন থেকে আগস্ট। বড় গাছের ডালে অথবা বাঁশগাছে কলোনি টাইপ বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২৪ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 22/11/2013

আরো পড়ুন