ধূসর বক | Grey heron | Ardea cinerea

1591

bp130114ছবি: গুগল|

মুন্সীগঞ্জ জেলার কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী ধলেশ্বরী নদী। নদীর সরু একটি নাড়ির নাম ‘নয়নের খাল’। মীরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন বছর দুয়েক আগে খালটি দখলমুক্ত করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক নান্দনিক পরিবেশের। জলাধারটি সংরক্ষণের ফলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি উপকৃত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের জলচর পাখিও। অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে এক উষালগ্নে খালপাড়ে দাঁড়াতেই নজরে পড়েছে নিম্নবর্ণিত সুশ্রী পাখিটি। বক প্রজাতির এ পাখিটিকে দেখে হতবাক হয়েছি খানিকটা সেদিন। কারণ স্বল্প আয়তনের জলাশয়ে ওর বিচরণের কথা নয়, তাই ধরে নিয়েছি দলছুট পাখি এটি।

এদের সংখ্যা বেশ কমে এসেছে আজকাল। ফলে ওকে দেখে একটু হতবাক হয়েছি বৈকি। নব্বই দশকের গোড়ার দিকেও মুন্সীগঞ্জের পদ্মার চরে দেখা যেত ব্যাপক। তখন ছিল সুলভ দর্শন, হালে অসুলভ হয়ে পড়েছে। এদের বিচরণক্ষেত্র যত্রতত্র নয়। মূলত বড় নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় কিংবা সুন্দরবন এলাকায় এদের বিস্তৃতি। বাংলাদেশ ছাড়াও দেখা মেলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু এলাকায়। এরা স্বভাবে শান্ত বিধায় অন্যসব প্রজাতির বকের সঙ্গে সহজেই মিশতে পারে। এমনকি ওদের সঙ্গে এরা শিকারে বের হওয়ারও নজির রয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, রাতও কাটায় উঁচু বৃক্ষের শাখায় একই সঙ্গে। বিচরণ করে ছোট-বড় দলে। উড়ার মুহূর্তে কর্কশ স্বরে ডাকে ‘কোয়ারংক… কোয়ারংক’ শব্দে। আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় এমন বক প্রজাতির মধ্যে এরাই সবচেয়ে বড় আকৃতির।

এদের বাংলা নাম: ‘ধূসর বক’, ইংরেজি নাম: ‘গ্রে হেরন’, (Grey heron), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘আরদিয়া সিনেরিয়া'(Ardea cinerea)| গোত্রের নাম: ‘আরডিদি’। এরা ‘ধূপনি বক’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতিটি লম্বায় ৮৪-১০২ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড় ও বুক সাদা। মাথার চূড়া কালোডোরা যুক্ত। মাথার তালু ফুঁড়ে বেরিয়েছে কালো পালকের লম্বা ঝুঁটি। লম্বা গলার মাঝ বরাবর রয়েছে মোটা ছাড়া ছাড়া দাগের ডোরা। রয়েছে ঝালর আকৃতির পালক। পিঠ ধূসর। পেটের দুই পাশে কালো ছোপ। উড়ার পালক কালো। ঠোঁট ও চোখের সামনের চামড়া হলুদ। পা কালো-হলুদ। প্রজনন মৌসুমে রং বদলায়। এ সময় ঠোঁট ও পা কমলা-লালচে দেখায়।

প্রধান খাদ্য: মাছ, ব্যাঙ, জলজ পোকামাকড় ও ছোট ইঁদুর। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুন। জলাশয় সংলগ্ন বড় গাছের ডালে সরু ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে। কলোনি টাইপের বাসা। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৫-২৭ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে ৫০ দিনের মতো।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 13/01/2014

আরো পড়ুন