বড় সুইচোরা | Blue bearded Bee eater | Nyctyornis athertoni

217

ছবি: গুগল|

সুইচোরা, পুরো নাম ‘বড় সুইচোরা’। দুর্লভ আবাসিক পাখি। স্লিম গড়ন। সুদর্শনও বটে। চাহনি রুক্ষ হলেও স্বভাবে অহিংস। যত্রতত্র দেখা মেলে না। মাঝে-মধ্যে এদের খোঁজ মেলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আর্দ্র পাতাঝরা ও চিরসবুজ অরণ্যের স্রোতধারায়। আবাদযোগ্য জমির আশপাশেও দেখা যায়। সুইচোরা অরণ্যের ভেতর ফাঁকা স্থানে বা জলাশয়ের কিনারে গাছের ওপর একাকী বসে থাকে শিকারের প্রতীক্ষায়। তবে যেখানেই বসুক না কেন, আশপাশটা ঝাপ-জঙ্গল-লতাপাতা কিংবা ঘন ডালপালাবিহীন মুক্তাঞ্চল হওয়া চাই-ই।

যাতে কিছু সময় পর পর উড়তে সুবিধা হয়। সব ধরনের সুইচোরা পাখি উড়ন্ত অবস্থায়ই পতঙ্গ শিকার করে। দৃষ্টিসীমার মধ্যে যে কোনো ধরনের কীটপতঙ্গ দেখলেই ছোঁ মেরে ধরে ফেলে এ পাখি। জলপানেও রয়েছে এদের বৈচিত্র্যতা। জলের ওপর উড়ে উড়ে ছোঁ মেরে এরা জল পান করে। স্থিরতা এদের মাঝে খুবই কম। কোথাও একদণ্ড বসে থাকার ফুরসত নেই যেন। বিরক্ত হলে ‘কর-র-র…কর-রর…’ কণ্ঠে আওয়াজ করে। বাংলাদেশ ছাড়া সুইচোরার বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ত পর্যন্ত। আইইউসিএনের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পাখি অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বাংলাদেশের বণ্যপ্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘বড় সুইচোরা’, ইংরেজি নাম: ‘ব্লুবারডেড বী-ইটার’ (Blue-bearded Bee-eater), বৈজ্ঞানিক নাম: Nyctyornis athertoni | এরা ‘নীলদাড়ি সুইচোর’ বা ‘পাহাড়ি সুইচোরা’ নামেও পরিচিত।

সুইচোরা লম্বায় ৩৬ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তফাৎ নেই। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কপাল নীল। ঘাড়, পিঠ ও লেজ সবুজ। লেজের নিচের দিক হলুদাভ। লেজের ডগা ভোঁতা। ডানার নিচের পালক হলুদাভ-পীতাভ। গলায় রয়েছে দাড়িসদৃশ নীল রঙের পালক, যা বুকের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। বুক কালচে নীল। পেট হলুদাভ-পীতাভ ডোরা। বাঁকানো ঠোঁট শিঙ বাদামি রঙের। নিচের ঠোঁটের গোড়া ধূসর। চোখ উজ্জ্বল সোনালি-কমলা। পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে সবুজ। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নীলদাড়ি থাকে না।

এদের প্রধান খাবার মৌমাছি, ফড়িং, বোলতা, গুবরে পোকা ইত্যাদি। ফুলের মধুর প্রতি যথেষ্ট আসক্তি রয়েছে। এদের প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট। বন-জঙ্গল বেষ্টিত জলাধারের খাড়া কিনারে অথবা পাহাড়ের গায়ে এরা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২০-২১ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 28/01/2015 এবং দৈনিক মানবকণ্ঠ, 26/10/2018

আরো পড়ুন