চিতিঠোঁট গগনবেড় | Spot billed Pelican | Pelecanus philippensis

21
চিতিঠোঁট গগনবেড় | ছবি: গুগল

অতি বিরল পরযিায়ী পাখি। ব্যতিক্রমী চেহারা আকারেও বৃহৎ। শীতে দেখা মেলে হাওর-বাঁওড়বা সামুদ্রিক জলাশয় অঞ্চলে। বিচরণ করে একাকী জোড়ায় কিংবা ঝাঁক বেঁধেহালে বাংলাদেশে খুব একটা নজরে পড়ে না।সর্বশেষ দেখা গেছে ১৯৮৯-৯০ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানার লেকে। পরবর্তী সময়ে অন্য কোথাও দেখা গেছে বলে আমাদের জানা নেই। বাংলাদেশ ছাড়াও বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, পাকিস্থান, শ্রীলংকা, তুরস্ক, লাওস, চীন, ও দক্ষিণ কম্বোডিয়া, পর্যন্ত। সমগ্র বিশ্বেই এদের অবস্থান সন্তোসজনক নয়। শিকারিদের অত্যাচারে  অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ওরা। এ ছারাও জলাশয় সংকটের কারণে এরা এরা হারিয়ে যেতে বসেছে।

পাখির বাংলা নাম: ‘চিতিঠোঁট গগনবেড়’, ইংরেজি নাম: ‘সপ্ট বেলিড পেলিক্যান’ (Spot-billed Pelican), বৈজ্ঞানিক নাম: Pelecanus philippensis |

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৫২ সেন্টিমিটার। ওজন ৪.১-৫.৭ কেজি। মাথার ঝুঁটি  ও ঘাড়ের বর্ণ গাঢ় ধূসর। ডানার ওপরে গোলাপি আভা। বুক ও পেটের দিকে হলদেটে। ওড়ার প্রাথমিক পালক কালো। ঠোঁট বড়। ঠোঁটের নিচে কমলা-হলুদ রঙের চামড়ার থলে। উপরের ঠোঁরটর মাঝে রয়েছে লম্বা প্লেট। নিচের ঠোঁটের কিনারা ধূসর। চোখের চারপাশে পালকহীন চামড়া। পা ও পাতা গোলাপি। কপালে সাদা পালক, যা উপরের ঠোঁটের গোড়ায় মিলিত হয়েছে। প্রজননের বাইরে গলার নিচের থলে গোলাপি রঙ ধারন করে। ওই সময়ে মাথার ঝুটির পালক ও গায়ে হলুদের আভা থাকে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখিদের ডানায় বাদামির পরিমান বেশি থাকে। ঠোঁঠে চিতি থাকে না, যা বয়স্কদের থাকে।

প্রধান খাবার: মাছ। মাছ শিকারের কৌশল বেশ মজাদার। এরা দলবদ্ধ হয়ে ঠোঁট ফাক করে মাছদেরে তারা করে নিজেদের থলেতে ঢুকিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে গিলে ফেলে। প্রজনন মৌসুম ভারতে অক্টোবর। শ্রীলঙ্কায় মার্চ থেকে এপ্রিল। এ ছাড়াও অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বড় গাছে দলবদ্ধভাবে বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে সরু ডালপালা। বাসা অগোছালো। মাচা আকৃতির। ডিম পাড়ে ৩টি। ডিম ফুটাতে সময় লাগে ৩০ দিন। শাবক স্বাবরম্বী হতে সময় নেয় ৬০-৯০ দিন। পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে ৩০ মাস।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 04/01/2019

আরো পড়ুন