লালকোমকর আবাবিল | Red rumped Swallow |Hirundo daurica

304
ছবি: গুগল|

ফিঙ্গে আকৃতির চেহারার কারণে অনেক সময় রুক্ষ মনে হতে পারে এদরে, তবে দেখতে অতটা মন্দ নয়। খুব নিরীহ প্রজাতির লালকোমর আবাবিল। মানুষের হাতে আক্রান্ত কিংবা বন্দি হলে বড়জোর নখ দিয়ে আঁচড় কাটে। অথবা খাটো ঠোঁট দিয়ে খোঁচা মেরে বৃথা ভরকে দেয়ার চেষ্টা করে। স্ত্রী-পুরুষের চেহারা অভিন্ন হলেও স্ত্রী পাখি তুলনামুলক খানিকটা খাটো। গড়ন ছিমছাম। স্ত্রীর তুরনায় পুরুষ খানকটা হালকা-পাতলা। গানের গলা ভালো, সুমধুর কণ্ঠে সুর তোলে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল পাহাড়-পর্বতশ্রেণি, নদ-নদী জলাশয়, ধানক্ষেত কিংবা ছোট দলে এদের দেখা মেলে। মাঝেমধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকেও দেখা যায়। বিদুৎ অথবা টেলিফোনের তারে জোড়ায় জোড়ায় বসে খুনসুটি করে। অনকে সময় অন্য সব প্রজাতির আবাবিলের দলেও ভিরে যেতে দেখা যায়। বাসা বানানোর সময় দলের অনেকে মিলে জলাশয়ের পাড় থেকে কাদা মাটি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসে। শীতে এরা বাংলাদেশে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে।তবে যত্রতত্র এদের দেখা যায় না।

বৈশ্বিক কিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভার, হিমালয় অঞ্চল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, দক্ষিণ ইউরোপ, পর্তুগাল,
স্পেন, জাপান, ক্রান্তীয় আফ্রিকা পর্যন্ত। এ ছারা উত্তর অস্ট্রেলিয়া ক্রিসমাস আইল্যান্ডে এদরে দেখা যায়।বিশ্বব্যাপি প্রজাতিটি এখনো বিলুপ্তির হুমকিতে নেই। মোটামুটি সন্তোসজনক এদের সংখ্যা।

পখির বাংলা নাম: ‘লালকোমকর আবাবিল’, ইংরেজি নাম: ‘রেড-রামপেড সোয়ালে’ (Red-rumped Swallow) বৈজ্ঞানিক নাম: Hirundo daurica | এরা ‘লাল-নিতম্ব আবাবিল’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৬-১৭ সেন্টিমিটার। ওজন ১৯-২৯ গ্রাম। কপাল ও মাথা টুপি আকৃতির গাঢ় নীল। ঘাড় লালচে বাদামি; নিচের দিকে লালচে সাদা। চেরা লেজ, ধূসর কালো। গলা সাদাটে লাল, ডোরা দাগ। গলার নিচে থেকে লালচে বাদামি। ঠোঁট খাটো, শক্ত মজবুত, কালো। চোখ নীলাভ। পা কুচকুচে কালো।

প্রধান খাবার: মাছি ও কীটপতঙ্গ। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর। অঞ্চলভেদে মৌসুমের হেরফের হয়। বাসা অঞ্চল মাটি দিয়ে; পুরনো দর-দালানের কার্নিশে। অদ্ভুত ধরনের বাসা, টানেল আকৃতির। যাতায়তের জণ্য বাসায় দুটি প্রবেশদ্বার রাখে এরা। ডিম পাড়ে ৩-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৬-১৮ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশের খবর, 31/03/2018

আরো পড়ুন