ব্লাইথের ছোট মাছরাঙা | Blyth’s Kingfisher | Alcedo hercules

906

ছবি: ইন্টারনেট।

‘ব্লাইথের ছোট মাছরাঙা’ বিপন্ন প্রজাতির পাখিদের মধ্যে অন্যতম। প্রজাতি দর্শনের সুযোগ হয়নি তাই অনেকেরই। অবশ্য বাংলাদেশে যত্রতত্র দেখা যাওয়ার নজিরও নেই। কেবলমাত্র শীতকালে হাওরে দেখা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বলা যায়, দেশের অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি এরা। বাংলাদেশ ছাড়াও এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ভিয়েতনাম ও লাওস পর্যন্ত। প্রজাতিটি বিশ্বে বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত।

ব্লাইথের ছোট মাছরাঙা প্রশস্ত চির সবুজ বনের ভেতর প্রবহমান নদীর কাছকাছি বিচরণ করে। বিচরণ করে একাকী। প্রবহমান নদীর তীরের কাছে গাছের ডালে কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলের পাথরের ওপর বসে থাকে শিকারের প্রতীক্ষায়। শিকার নাগালের ভেতর এলেই তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলে। বেশিরভাগ সময় জলের ওপর নুয়ে থাকা ঝোপের ভেতর লুকিয়ে থাকে ওরা। ভয় পেলে অন্যসব প্রজাতির মাছরাঙার মতো না পালিয়ে বরং ঝোপের ভেতর লুকিয়ে পড়ে। লুকানো অবস্থায় তীক্ষèকণ্ঠে ‘চী-চিচী…’ সুরে ডেকে ওঠে।
প্রিয় পাঠক, গত ২৭ জানুয়ারি মানবকণ্ঠ পত্রিকায় একটি শিরোনাম ছিল, ‘শেরপুরে অবাধে পাখি শিকার’। সংবাদ পাঠে বিচলিত হয়েছি যেমনি, তেমনি খানিকটা উৎসুক হয়েছি, শেরপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘শাইন’-এর কথা জানতে পেরে। সংগঠনটির পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনির সঙ্গে কথা বলতে উৎসাহবোধ করি ‘শাইন’ নামকরণের জন্য। যথারীতি আলাপও করি। তিনি এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, ‘আলম শাইন-এর নামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এ নামকরণ করেন’। এমন একজন পরিবেশবাদীকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারিনি আমি।

পাখির বাংলা নাম: ‘ব্লাইথের ছোট মাছরাঙা’, ইংরেজি নাম: ব্লাইথ’স কিংফিশার’, (Blyth’s Kingfisher), বৈজ্ঞানিক নাম: Alcedo hercules | সমনাম নেই। পাখি বিজ্ঞানী ব্লাইথ-এর নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়।

লম্বায় ২০ সেন্টিমিটার (ঠোঁট ৫ সেন্টিমিটার)। মাথার চাঁদি ঘন সবুজের ওপর অসংখ্য সাদা ফুটকি। ঘাড়ের দু’পাশে সাদা টান। পিঠ কালচে নীল। কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা কালচে সবুজাভ। ডানার প্রান্ত পালক কালচে। লেজ উজ্জ্বল নীল। গলা সাদা। বুক ও পেট কমলা। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে পার্থক্য তেমন একটা নেই। পুরুষ পাখির ঠোঁট দু’পাটি কালো। অপরদিকে স্ত্রী পাখির উপরের ঠোঁট কালো হলেও নিচের অংশ লালচে। উভয়ের চোখ রক্ত লাল। পা ও পায়ের পাতা প্রবাল-লাল।

প্রধান খাবার মাছ। এ ছাড়াও ব্যাঙাচি বা জলজ পোকামাকড় শিকার করে। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন। জলাশয়ের খাড়া পাড়ে নিজেরা গর্ত বানিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 30/01/2015

আরো পড়ুন