দেশি রাতচরা | Indian Nightjar | Caprimulgus asiaticus

888

ছবি: ইন্টারনেট।

দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রামগঞ্জে বাস। বিশেষ করে হালকা ঝোপজঙ্গল কিংবা বাঁশবনে এদের বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। প্রজনন মৌসুম ছাড়া বেশিরভাগই একাকী বিচরণ করে। দিনে ঘুমিয়ে কাটায়। সূর্যাস্তের খানিকটা পরেই ঝোপজঙ্গলের ভেতর থেকে ‘চউঙ্ক-চউঙ্ক-চউঙ্ক’ সুরে ডাকতে থাকে। কণ্ঠস্বর সুমধুর না হলেও সুরে তাল-লয় রয়েছে। রাত বাড়লে ডাকাডাকি বন্ধ। দেখতে মোটেও আকর্ষণীয় নয়। শারীরিক গড়নটাও একটু ব্যতিক্রম। গায়ের বর্ণ অনেকটাই গাছের মরা ডাল বা শুকনো পাতার মতো। গাছের ডালে বসলে খুব সহজে পাখি হিসেবে শনাক্ত করা যায় না।

অপরদিকে মাটিতে বসে থাকলে শুকনো পাতার মতোই মনে হতে পারে। মাড়িয়ে গেলেও টের পাওয়া যায় না যে, এরা পাতা নাকি পাখি! বর্ণচোরা বিধায় নিরাপদে থাকার খানিকটা সুযোগ পায় ওরা। প্রজাতিটি এক সময় সুলভ দর্শন ছিল। হালে অসুলভ হয়ে উঠছে। প্রধান কারণই হচ্ছে আবাস সংকট। গ্রামে আগের মতো ঝোপজঙ্গলও নেই, নেই বাঁশঝাড়ও। যাতে করে প্রজাতিটি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেও এরা ভালো নেই। ফলে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া উত্তর-পশ্চিম ভারত, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান, হিমালয়ের দক্ষিণাংশ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত।

পাখির নাম: ‘দেশি রাতচরা’, ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান নাইটজার’ (Indian Nightjar), বৈজ্ঞানিক নাম: Caprimulgus asiaticus | দেশে মোট পাঁচ প্রজাতির ‘রাতচরা’ পাখির দেখা মেলে।

রাতচরা লম্বায় ২১-২৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৪০-৪৬ গ্রাম। গায়ের উপরের রঙ কালচে-বাদামি মিশ্রিত ছিট। চোখের পাশ থেকে চিবুক পর্যন্ত অল্পস্বল্প খাড়া লোম। লেজ ও ডানা সামান্য লম্বা। বুক থেকে পেট পর্যন্ত রয়েছে আড়াআড়ি ডোরা দাগ। গলায় হালকা ক্রিমসাদা বন্ধনী। লেজের তলার পালক ফিকে রঙের। পা কালচে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম মনে হলেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রধান খাবার ঝিঁঝি পোকা, ফড়িং, গুবরে পোকা ও উড়ন্ত কীটপতঙ্গ। বিশেষ করে নিশাচর কীটপতঙ্গ শিকার করে বেশি। প্রজনন সময় জুন থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে সরাসরি মাটির ওপরে। শুকনো পাতা জড়ো করে তার ওপরে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৬-১৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 16/10/2015

আরো পড়ুন