ধলাকোমর মুনিয়া

mk071016

দল বেঁধে বিচরণ করে। অস্থিরমতি পাখি। মাটিতে হাঁটতে কষ্ট হয়। লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটে। গাছের ডালে বসে জোড়ায় জোড়ায় গায়ের সঙ্গে গা মিলিয়ে রাত কাটায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি অঞ্চলে কমবেশি নজরে পড়ে। হালে যত্রতত্র দেখা যায় না। আশঙ্কাজনক পর্যায়ে না পৌঁছলেও এরা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। যার ফলে অইইউসিএন প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রিয় পাঠক, মুক্ত অবস্থায় এ প্রজাতিটির সাক্ষাৎ ঘটেছে ক’দিন আগে। ইতিপূর্বে খাঁচায় দেখলেও সে দেখায় আত্মতৃপ্তি মেলেনি। বিষয়টি খুলে বলে বলছি। গেল সপ্তাহে পাঠকদের অনুরোধ করেছি ঢাকার আশপাশ থেকে একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এলাকার সন্ধান জানাতে। অজস মেইল পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিও। এরই মধ্যে রূপগঞ্জ থানার ভোলাব ইউনিয়ন থেকে ঘুরে এসেছি একজন লেখক বন্ধু এন আই মাকসুদ ভাইয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে। যিনি বর্তমানে একটা কোম্পানির পরিচালক, বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন। তার বদৌলতে-ই রূপগঞ্জের সবুজ শ্যামল মাঠ প্রান্তরে ‘ধলাকোমর মুনিয়া’র সাক্ষাৎ পেয়েছি। তা ছাড়া রূপগঞ্জে রক্তসম্পর্কীয় একজন চাচা রয়েছেন (তার পৈত্রিক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পর উপজেলায়)। তিনি হচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ। তিনি গেল বছর আমাকে বলেছেন, ‘তুমি একদিন রূপগঞ্জের রূপ দেখে যেও’। কিন্তু সময়ের অভাবে জীবন্ত কিংবদন্তি আমাদের বংশের গৌরব এই মানুষটির বাড়ি যেতে পারিনি। যাই হোক, আবার ধলাকোমর মুনিয়া প্রসঙ্গে ফিরে আসছি।

পাখির বাংলা নাম: ‘ধলাকোমর মুনিয়া’, ইংরেজি নাম: ‘হোয়াইট-রামপেড মুনিয়া’, (White-rumped Munia), বৈজ্ঞানিক নাম: Lonchura striata। দেশে প্রায় পাঁচ প্রজাতির মুনিয়ার সাক্ষাৎ মেলে।

প্রজাতির দৈর্ঘ্য ১১-১২ সেন্টিমিটার। ওজন ৯-১৩ গ্রাম। মাথা, চিবুক, ঘাড়, বুক গাঢ় কালচের ওপর বাদামি আভা বের হয়। পিঠ কালচে-বাদামির নিচে চওয়া সাদাটান, যা কোমর পর্যন্ত ঠেকেছে। লেজ কালো, অগ্রভাগ চোখা। লেজতল হালকা পাটকিলে। বুকের নিচ থেকে তলপেট পর্যন্ত সাদা। চোখের মনি গাঢ় পাটিকিলে। ত্রিকোণাকৃতির ঠোঁট, নীলাভ কালো। পা সেøট কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার: ধান, কাউন ও শস্যবীজ।

প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। কাঁটা ঝোপ, কাশবন অথবা নল খাগড়ার বনে বাসা বাঁধে। শুকনো খড় লতাপাতা বাসা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৭ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ। alamshine@gmail.com

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 07/10/2016

আরো পড়ুন