হিমালয়ী কাঠঠোকরা | Himalayan Goldenback | Dinopium shorii

1312

ছবি: ইন্টারনেট।

অসুলভ দর্শন আবাসিক পাখি। সুশ্রী গড়ন। দেখা মেলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বনাঞ্চলে। বিচরণ করে মিশ্র-চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনে। এরা পারিবারিক দলে এবং একাকী বিচরণ করে। পিঁপড়া খেতে মাঝে মধ্যে মাটিতে নামে। হাঁটে লাফিয়ে। গাছের কাণ্ডের চারদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে শিকার খোঁজে। কণ্ঠস্বর কর্কশ। শিকাররত অবস্থায় ঘনঘন ‘ক্লাক-ক্লাক-ক্লাক…’ সুরে ডাকাডাকি করে। প্রজনন মৌসুমে হাঁকডাক বেড়ে যায়। এ সময় ‘কি-কি-কি-কি’ সুরে ডাকে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান পর্যন্ত। বিশেষ করে হিমালয়াঞ্চল থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত অধিক নজরে পড়ে। প্রজাতিটি বিশ্বে বিপন্নমুক্ত। বাংলাদেশে অপ্রতুল তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এদের সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়নি।
এবার অন্য প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু, সাংবাদিক (বোস্টন বাংলা নিউজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক) হাকিকুল ইসলাম খোকন ভাই সম্প্রতি ‘বিবিসি-ইমপেক্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’ ভূষিত হয়েছেন। সংবাদটি শুনে খুব খুশি হয়েছি। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এ প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছেন একজন বাঙালি। অভিনন্দন জানাতে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি আমার অভিনন্দন গ্রহণ করলেন। ফাঁকে জানিয়ে দিলেন, “আগামী সংখ্যায় কিন্তু ‘কাঠঠোকরা’ চাই।” হঠাৎ কেন কাঠঠোকরা, জানতে চাইলে হেসে বললেন, ‘ম্যাসাচুসেটস বেড়াতে গেলে ওক গাছে কাঠঠোকরার সাক্ষাৎ মেলে। তখন দেশের কথা বেশ মনে পড়ে। জানিয়ে দিলাম তাই আপনাকে। প্রিয় পাঠক, বন্ধুর কথা রাখতে আজ ‘হিমালয়ী কাঠঠোকরা’ নিয়ে লিখলাম।

পাখির বাংলা নাম: হিমালয়ী কাঠঠোকরা, ইংরেজি নাম: হিমলয়ান গোল্ডেনব্যাক, (Himalayan Goldenback), বৈজ্ঞানিক নাম: Dinopium shorii |

লম্বায় ৩০-৩১ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির মাথার চাঁদি ও চূড়া টকটকে লাল। অপরদিকে স্ত্রী পাখির কপাল ও চাঁদির সামনের অংশ বাদামি কালো, চূড়া লম্বা সাদাডোরাসহ কালো। উভয়ের পিঠ সোনালি-হলুদ। ডানার প্রান্ত পালক কালো। লেজ কালো। ঘাড় কালো। গলার মধ্যভাগ বাদামি-পীতাভ। কোমর উজ্জ্বল লাল। দেহতল কালোর ওপর খাড়া দাগ। চোখ ও ঘাড়ের মাঝে ফ্যাকাসে বাদামি অস্পষ্ট কালো ডোরা। চোখের পেছন থেকে প্রশস্ত সাদা ভ্রƒ ঘাড়ে গিয়ে ঠেকেছে। ঠোঁট কালচে। চোখ লালচে-বাদামি। পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে।

প্রধান খাবার পোকামাকড় এবং পিঁপড়া। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। গাছের মোটাসোটা ডালে নিজেরা খোড়ল বানিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৭-১৮ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, ০৮/০৫/২০১৫

আরো পড়ুন